কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আমিন রুহুল সরকারের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের বড় ভাই নুরুল আমিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খাইরুল আমিন রুহুল সরকার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের মৃত উসমান গণির ছেলে। তিনি কেন্দ্রীয় দলিল লেখক সমিতির সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং কটিয়াদী দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পরিবারের দাবি, খাইরুল আমিনের আগে থেকেই মাঝেমধ্যে বুকে ব্যথা হতো। কারাগারে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। গত দুই দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
বড় ভাই নুরুল আমিন জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইনি জটিলতায় কয়েক ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নুরুল আমিন বলেন, ‘সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেলে আমার ভাইকে বাঁচানো যেত। গত সাত-আট বছর ধরে বিভিন্ন কারণে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরেন খাইরুল আমিন রুহুল সরকার। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাকে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, খাইরুল আমিনের আগে থেকে অসুস্থতার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বলেন, ‘খাইরুল আমিন রুহুল সরকার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি ব্যবস্থাপনায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুদিন ধরে তার অসুস্থতার কথা বলা হলেও কারাগার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানত না। মৃত্যুর আগে তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা হঠাৎ করেই তীব্র হয়ে ওঠে।
এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় বিলম্ব ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে জেলার নাশির আহমেদ বলেন, শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
কেকে/ এমএস