গাজীপুরের শ্রীপুরে পৈতৃক জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে আইন উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত টাকা না দিলে মারধর ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদার মো. হুমায়ূন রশিদ। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেলিহাটি মৌজার তালতলী (মুরগি বাজার) এলাকায় ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। হুমায়ূন রশিদের দাবি, ১৯৯৩ সালের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে তার বাবা আব্দুল খালেক ওই জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁরা জমিটির মালিক হন এবং নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখলে রয়েছেন।
হুমায়ূন রশিদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে আইন উদ্দিন, তার দুই ছেলে আলমাছ উদ্দিন ও সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন দা, লোহার রড ও শাবল নিয়ে ওই জমিতে যান। তারা জমি দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে সেখান থেকে সরে যান। এ সময় জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মারধর এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের মীমাংসায় এর আগে একাধিকবার সালিশ ও জমি মাপজোকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এলাকাবাসীর কয়েকজন আইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও স্থানীয়দের কাছে চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ থাকার দাবি করলেও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আইন উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ওই জমিতে নিজের অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন। তবে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
হুমায়ূন রশিদ বলেন, “আমার পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা চলছে। স্থাপনা নির্মাণ করতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে মারধর ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি পরিবারের নিরাপত্তা ও জমির সুরক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র নিয়ে অভিযুক্তদের থানায় উপস্থিত হতে বললেও হাজির হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
কেকে/ এমএস