মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৯ জনের      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৯৯      প্রাথমিকের ১৪৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর      ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী      তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে : পানিসম্পদমন্ত্রী      স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ      সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার      
দেশজুড়ে
ধান সংগ্রহে দুর্নীতি, গঙ্গাচড়ায় খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ইউএনওর তলব
নির্মল রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুন ও মো. কাইয়ুম খান

মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুন ও মো. কাইয়ুম খান

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগের পর প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দৈনিক খোলা কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার স্বাক্ষরিত পত্রে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুনকে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) খোলা কাগজে গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও চালকল মালিকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

লিখিত অভিযোগে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে কৃষকদের ধান গ্রহণে অনীহা, বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতি টনে কয়েক হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুনেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। 

ধান সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি। অনেককে বারবার গুদামে গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তারা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী সহজেই ধান সরবরাহের সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের পর প্রশাসনের ব্যাখ্যা তলবের ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। 

তারা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। 

স্থানীয়দের দাবি, শুধু লিখিত ব্যাখ্যা গ্রহণেই সীমাবদ্ধ না থেকে ধান সরবরাহকারীদের তালিকা, কৃষক নিবন্ধন তথ্য, গুদামে জমা হওয়া ধানের উৎস, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হোক। 

পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ধান সংগ্রহে দুর্নীতি   গঙ্গাচড়া   খাদ্য নিয়ন্ত্রক   ইউএনও   তলব  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close