মাগুরার মহম্মদপুরে সাড়ে তিন বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তের নাম মো. লস্কর বিশ্বাস (৬৫)। তিনি উপজেলার ধোয়াইল গ্রামের মৃত যদন বিশ্বাসের ছেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে একা পেয়ে লস্কর বিশ্বাস কৌশলে তার হাত ধরে ঘরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় শিশুটির মা ঘরের ভেতর তার অপর ছোট সন্তানকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন। পরবর্তীতে শিশুটির চিৎকার ও অস্বাভাবিক আচরণে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে এবং পুরো ঘটনাটি জানাজানি হয়।
শিশুটির বাবা মো. জুয়েল মোল্যা মাগুরা থানার সামনে একজন চায়ের দোকানদার। ঘটনার সময় তিনি দোকানে কর্মরত ছিলেন। বাড়িতে ফিরে মেয়ের মুখে এ ঘটনার কথা জানতে পেরে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি সামাজিকভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, অভিযুক্ত লস্কর বিশ্বাসের ছেলে মো. হোসাইন আহমেদ কাবুল স্থানীয় মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
এলাকায় এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই কৌশলে গা-ঢাকা দেন অভিযুক্ত লস্কর বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
এক ভিডিওবার্তায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী শিশুর পিতা জুয়েল মোল্যা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘একজন পিতা হিসেবে আমি এ ঘটনার সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ বর্তমানে অসহায় পরিবারটি সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম শামীম আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ করছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/এলএ