খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার গ্রাজুয়েট হাইস্কুল-হায়াতখালী বাজার সড়কে ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কে পিচ ঢালাই দিয়েছেন ঠিকাদার। খুঁটি অপসারণ না করে কার্পেটিং করায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসকে অবহিত না করে খুঁটি রেখে কার্পেটিং করা হয়েছে দাবী বিদ্যুৎ বিভাগের।
খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রাজুয়েট হাইস্কুল-হায়াতখালি বাজার সড়কের সাড়ে ৩ কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ গত মাসে শেষ হয়েছে।
এ সড়ক নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ৪২ লক্ষ ৭৭ হাজার ২২৯ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ মেসার্স এসআর ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও দুই দফা মেয়াদ বৃদ্ধির মাধ্যমে নির্মান কাজ শেষ করতে পারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রাজুয়েট হাইস্কুল-হায়াতখালী বাজার সড়কটি উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর ও মঠবাড়ী গ্রামের মধ্য পড়েছে। মঠবাড়ী গ্রামের অংশে ১৬টি এবং মহারাজপুর অংশে ৪টি খুঁটি রেখে পিচ ঢালাই করা হয়েছে। এসব বৈদ্যুতিক খুঁটি এলাকার বাসাবাড়ির সাথে সংযুক্ত রয়েছে।
এলাকার বাদল মোড়ল বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। তার ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে পিচ ঢালাই করা হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে গাড়ির চাপও বেড়েছে। যে কারণে দুর্ঘটনার শিকার হবে পথচারী ও স্থানীয়রা।’
মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ বলেন, ‘সমন্বয়হীনতার অভাবে এমন হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরালে মানুষের ভোগান্তি হবে এবং দুর্ঘটনার শিকার হতে হবে।’
এসআর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অপসারণে কোন বরাদ্দ না থাকায় রাস্তার ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কে কাজ শেষ করতে আমাদেরও সমস্যা হয়েছে। এভাবে বৈদ্যুতিক খুটি রেখে সড়ক নির্মাণ করায় যেকোন সময় দুর্ঘটনা আশঙ্কা রয়ে যায়।’
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কয়রা জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘নির্মাণাধীন কোন সড়কের উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অথবা এলজিডি থেকে কাজ শুরুর পূর্বে খুঁটি স্থানান্তরের জন্য আবেদন করার কথা। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ করে খুঁটি স্থানান্তরের জন্য আবেদন দিয়েছেন।অনুমোদন হলে খুঁটি স্থানান্তর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবেদনের প্রেক্ষিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানন্তরের খরচের টাকার পরিমাণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়। পরবর্তী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টাকা জমা দিলে আমার বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে দেই।’
তার দাবি, এটা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি। হয়তো বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করতে যে টাকা খরচ হবে, সেটা খরচ করতে চাইছে না। এ জন্য তারা আমাদের অবহিত না করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে তাদের বাজেট থাকে না। তবে আমাদের কাছে আবেদন করলে আমারা সরিয়ে দেই। পরবর্তী বাজেট পেলে আমাদের পরিশোধ করে দেই।’
উপজেলা প্রকৌশলী শাহীন শোয়েব বলেন, ‘বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।অনুমোদন হলে খুঁটি অপসারণ করা হবে।’
কাজ শুরুর আগেই আবেদন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে সময়ে কি হয়েছিল, আমি জানি না। আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। তবে সড়কের উপর খুঁটি থাকলে আগে অপসারণ করে কাজ শুরু করা উচিৎ ছিল।’
কেকে/এমএ