গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক রাতে শিয়ালের হামলায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। রাস্তায় চলাচলের সময় পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পাশাপাশি বসতঘরে ঢুকেও হামলা চালিয়েছে শিয়াল।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় ঘটে এসব ঘটনা।
আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরপর একাধিক হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, শনিবার রাত থেকে রোববার (১২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা হলেন আকাশ (১৩), নাঈম (১১), মাজেদা (৪৫), রোজিনা (৩৬), হেলেনা আক্তার (৪০), আশরাফুল ইসলাম (২৬), শেফালী (৩৪), সাইফুন্নাহার (৩৫), আরাফ (১৪), তাজলি (১২), চাঁন মিয়া (৬২), আসাদ (১৪), জাইমা (১৪) ও মাহি (১১) রয়েছেন।
এদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা বেড়েছে। শনিবার রাতে একটি শিয়াল প্রথমে রাস্তায় চলাচলরত মানুষকে এলোপাতাড়ি কামড়ে আহত করে। পরে ভাংনাহাটি এলাকায় একটি বসতঘরে ঢুকে দুই নারীকে আক্রমণ করে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গোসিঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আজাহারুল ইসলাম বলেন, “এক রাতে এত মানুষের ওপর শিয়ালের হামলার ঘটনা আগে দেখিনি। মানুষ সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।”
ভাংনাহাটির বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, “শিয়ালটি একটি বাড়িতে ঢুকে দুই নারীকে কামড় দিয়ে আহত করেছে। এরপর থেকেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।”
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিজন মালাকার বলেন, ‘‘আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও রেবিস প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’
শিয়ালের কামড়কে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, ‘শিয়ালের অস্বাভাবিক আচরণ রেবিস সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যসংকট, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া কিংবা পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসতে পারে। আক্রান্ত প্রাণী শনাক্ত ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।’
কেকে/এমএ