স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আরংশাইল গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি এখন হাঁটুসমান কাদা ও পানিতে ডুবে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে ক্লান্ত এলাকাবাসী শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদের অভিনব উপায় হিসেবে সড়কের মাঝেই ধানের চারা রোপণ করেছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরংশাইল থেকে রাজারদীঘি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এবং মালতাগাড়ি থেকে রাজবাড়ী মুকুন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত আরও প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। বর্ষার পানিতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পিচ্ছিল কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে প্রতিদিনের চলাচল স্থানীয়দের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যবহৃত এই সড়ক দিয়ে আরংশাইল, মাকরখোলা, রাজারদীঘিসহ অন্তত সাতটি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। রাস্তার এমন করুণ অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীরা।
এলাকার শিক্ষক জাহের আলী এবং স্থানীয় বাসিন্দা হাসান, হুমায়ুন, সাইফুল, রাজ্জাক, নুর ইসলাম ও লতিফ বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু কাদা-পানিতে পিছলে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সও গ্রামে প্রবেশ করতে চায় না, ফলে রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা বিশার উদ্দিন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই রাস্তাকে এমন অবস্থায় দেখে আসছি। স্বাধীনতার পর অনেক সরকার এসেছে-গেছে, কিন্তু এই রাস্তার ভাগ্য বদলায়নি। আমরা কি দেশের নাগরিক নই? এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার শুধু আশ্বাসই মিলেছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়টি তার জানা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, আরংশাইল গ্রামের সড়কটি দপ্তরের তালিকাভুক্ত রয়েছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বাজেটের অপেক্ষায় আর কতদিন পাঁচ হাজার মানুষকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হবে? তারা অবিলম্বে সড়কটি পাকাকরণ, চলাচলের উপযোগী করা এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেকে/ এমএস