মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক চুরি ও প্রতারণার ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে, তারা ঘটনার তদন্ত করছে। তবে, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।
সর্বশেষ রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাতে শহরের স্টেশন রোডের খাতুন ম্যানশনে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা তালা ভেঙে সীমান্ত প্লাস পয়েন্ট, সারধা টেলিকম ও আইডল ফ্যাশনে প্রবেশ করে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন দোকান মালিকরা।
একই রাতে উকিল বাড়ি রোডের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার বাড়ি থেকেও নগদ টাকা, টেলিভিশন ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে স্টেশন রোডের সন্ধ্যা ফার্মেসির টিন কেটে ভেতরে ঢুকে আইপিএস, ব্যাটারি ও ইনভার্টার মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ রোডের নুর ফুডস হোটেলের সামনে থেকে এক ব্যবসায়ীর ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কবির আহমদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত বুধবার (৮ জুলাই) পূবালী আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে জানালার গ্রিল কেটে ঢুকে নতুন ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়।
বাড়ির মালিক জানান, এর আগেও একই বাড়িতে চুরি হয়েছে। সে সময় চুরি হওয়া অর্থ ও স্বর্ণালংকার এখনও উদ্ধার হয়নি।
গত ২ জুলাই কলেজ রোডে এক নারীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই এবং ২৮ জুন এনসিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
গত ২০ জুন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন জসিমের বাসা থেকে দুটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। সেগুলোও এখনও উদ্ধার হয়নি।
শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. কামাল হোসেন দ্রুত চোরদের শনাক্ত, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’
কেকে/এমএ