টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়ন একেবারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মৎস্য প্রজেক্ট ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরই ইউনিয়নের কেয়াজুপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়া থেকে পুলাংপাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার পাশের একাংশ ধসে পড়েছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ার কারণে সড়কের পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে খুঁটিটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সচেতন সমাজের পক্ষে মো. সবুজ সরদার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগকে অতি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সরই ইউনিয়নের কিল্লাছড়া-বটতলীপাড়া হয়ে আন্ধারীতে যাতায়াতের একমাত্র সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে ওই এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জনদুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছানোয় সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কার বা বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঢলের পানিতে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় ‘মারকাযুল উলূম আল-ইসলামিয়া তাহফিযুল কুরআনুল কারীম মাদ্রাসা ও মসজিদ’। পানির তোড়ে মাদ্রাসার জায়গার মাটি ধসে গিয়ে শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে।
শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে চিন্তিত শিক্ষকরা।
শুধু রাস্তাঘাট বা সেতুই নয়, ঢলের পানিতে তলিয়ে ও ভেসে গেছে সরই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত। বন্যার পানিতে মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সব মিলিয়ে টানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরই ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষিখাত মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু দ্রুত মেরামত এবং বিদ্যুৎঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেল বলেন, টানা অতিবৃষ্টিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, ফসলি জমি, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।
তবে টানা বৃষ্টি শুরুর আগেই গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। ফলে এখন পর্যন্ত সরই ইউনিয়নে পাহাড়ধস বা ভূমিধসজনিত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১০০টি পরিবারের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দের লক্ষ্যে তালিকা পাঠানো হয়েছে।
কেকে/এলএ