বান্দরবান পার্বত্য জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস এ সময় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, গত ৬-১৩ জুলাই পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে বান্দরবানে। এ সময়ে মোট ৫১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, মধ্যবর্তী সময়ে সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্তমানে সাংগু নদীর পানি বিপদসীমার ৫ দশমিক ৪৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৩ দশমিক ৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭টি পয়েন্টে পাহাড়ধস হয়েছে। এর মধ্যে বড় আকারের পাহাড়ধসের সংখ্যা ১১টি। পাহাড়ধস ও গাছ ভেঙে ২১টি পয়েন্টে সড়ক বন্ধ ছিল। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ক্ষেত্রবিশেষে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সড়কগুলো সচল করা সম্ভব হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পাহাড়ধসের দুটি ঘটনায় লামা উপজেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে মারা গেছেন আরও দুইজন।
এ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছোট-বড় চারটি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। বাকি তিনটির কাজ চলমান রয়েছে।
জেলার মোট প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্র ছিল ২২০টি। এর মধ্যে ৬৭টিতে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণাধীন ভবনে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে আশ্রয় গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৫৮২ জন।
পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১২ হাজার ৫০০। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লামা পৌর এলাকা, বান্দরবান পৌরসভা ও সদর উপজেলা। মোট আক্রান্ত ইউনিয়ন ৩৪টি। সে হিসাবে জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত ৪০০ টন চাল, ২০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এসব সহায়তার মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ত্রাণকার্যে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপির কর্মী, বিভিন্ন এনজিও, বিশেষ করে ব্র্যাক, গ্রাউস, ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক এ দুর্যোগে গণমাধ্যমকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা স্বীকার করেন এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আগামীতেও জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এলএ