বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভাবনা লিওনেল মেসিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলছেন, মেসিকে পুরোপুরি থামানো সম্ভব না হলেও পরিকল্পিত কৌশল, দলগত শৃঙ্খলা ও সাহসী ফুটবলের মাধ্যমে তার প্রভাব কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে ইংল্যান্ড।
এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে আট গোল করা ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে নিয়ে মঙ্গলবার আটলান্টায় সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, “নরওয়ের বিপক্ষে আর্লিং হাল্যান্ডকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এবারও একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।’
তবে মেসিকে পুরো ম্যাচে আটকে রাখা সম্ভব নয় বলেও স্বীকার করেন ইংল্যান্ড কোচ।
তিনি বলেন, “আমরা পুরোপুরি সচেতন যে তাকে সবসময় এবং শতভাগ আটকে রাখা সম্ভব হবে না। তিনি হাল্যান্ডের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। তবে হাল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের পরিকল্পনা ভালো কাজ করেছিল। এবারও আমরা মেসিকে থামানোর একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।”
মেসির প্রশংসা করে টুখেল জানান, এবারই প্রথম কোনও দলের কোচ হিসেবে তার বিপক্ষে নামছেন তিনি।
তিনি বলেন, “অবিশ্বাস্য লাগে, মেসি কত ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তিনি ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেন, সঠিক মুহূর্ত তৈরি করেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পুরো দল তার দর্শনে বিশ্বাস করে। তাকে সহায়তা করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করে। তিনি যখন ব্যবধান গড়ে দিতে চান, তখন পুরো দল প্রস্তুত থাকে।’’
মেসিকে আটকাতে নিজের খেলোয়াড়দের সাহসী হওয়ারও আহ্বান জানান টুখেল।
ইংলিশ কোচ বলেন, “এ ধরনের খেলোয়াড়কে থামানোর কোনো জাদুকরী ফর্মুলা নেই। তবে আমাদের সাহসী হতে হবে। তার আশপাশের খেলোয়াড়দের বল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে এবং তিনি যখনই বল পাবেন, তখন তার প্রতিটি নড়াচড়ার ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।’’
আর্জেন্টিনার মানসিকতাই বড় শক্তি
টুখেলের মতে, আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে তাকে ফাইনালে তুলতে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে।
তিনি বলেন, “আমি আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে চিনি, তাদের কোচিংও করিয়েছি। তারা এক গোল পিছিয়ে থাকলেও আতঙ্কিত হয় না। তারা নিজেদের খেলায় বিশ্বাস রাখে। তারা সত্যিই কঠিন এবং প্রায় অপরাজেয় একটি দল। চার বছর আগের দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় এখনও একসঙ্গে খেলছে।’’
দলের ঐক্যই আর্জেন্টিনার শক্তি
আর্জেন্টিনার গভীরতা ও দলগত ঐক্যেরও প্রশংসা করেন টুখেল।
তিনি বলেন, “আপনি তাদের ঐক্য ও আত্মত্যাগ দেখতে পাবেন। পিছিয়ে পড়লেও তারা বিচলিত হয় না। নিজেদের খেলার ধরনে বিশ্বাস রাখে। তাদের ফুটবল আবেগে ভরপুর। কাতারেও এটি ছিল, এখনও আছে। তাদের কোচও একই।’’
তিনি যোগ করেন, অবশ্যই ইতিহাস থেকেও তারা শক্তি পায়। তবে আমরাও আবেগপ্রবণ। তাদের বিপক্ষে লড়াই করার মানসিকতা আমাদের আছে এবং আমরা প্রস্তুত।
মেসির জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলারদের মানসিকতা নিয়েও কথা বলেন টুখেল।
তিনি বলেন, “ব্রাজিলিয়ান ও আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা বলছে, তারা পারিবারিক পরিবেশ খুব পছন্দ করে। একসঙ্গে থাকা, খাওয়া-দাওয়া করা, বারবিকিউ করা—এসব থেকেই তাদের বন্ধন তৈরি হয়। সেই বন্ধনই তাদের শক্তি।’’
কোচ বলেন, “এই কারণেই তারা লিও মেসির জন্য নিজেদের সবকিছু বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। নিজেদের ক্লাবের বড় তারকা হলেও জাতীয় দলে এসে তারা একতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’’
মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে টুখেল বলেন, “তিনি অবশ্যই সর্বকালের অন্যতম সেরা। সর্বকালের সেরা—এমন বিতর্কের বিচার করার আমি সঠিক ব্যক্তি নই। তবে তিনি নিঃসন্দেহে ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের একজন।’’
কেকে/এলএ