মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেঁধে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে চালানো চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গজারিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা গ্রামের মৃত সাফিজল হাওলাদারের ছেলে মাইন উদ্দিন (৪৫), একই উপজেলার জয়া গ্রামের অহিদ মাতাব্বরের ছেলে ছোটন (৩০), ঢাকার বাড্ডা থানার বড় বেড়াইত এলাকার শাফি উদ্দিনের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (২৬) এবং শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার চর চান্দার মুন্সীকান্দি গ্রামের আব্দুর রব মোল্লার ছেলে আবুল খায়ের (৪০)। তাদের স্থায়ী ঠিকানা বিভিন্ন জেলায় হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার তেজগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় বসবাস করে আসছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের প্রতিষ্ঠানে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাত দল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী কনস্ট্রাকশন যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান মালামাল ট্রাকে করে লুটে নেয়। লুট করা মালামালের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ৩০ হর্স পাওয়ারের মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি ও ট্রেমি হেডসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে। এরপর ঢাকার তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠে নামি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঢাকা থেকে ৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/ এমএস