মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়া এবং আপন ভাইদের হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৮টায় কলেজ রোডস্থ শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহরের নতুন বাজার দক্ষিণ রোডের স্থায়ী বাসিন্দা মৃত হাফেজ মুসলেহ উদ্দিনের মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী বিলকিস হাসান।
লিখিত বক্তব্যে বিলকিস হাসান বলেন, ‘আমার পিতা ২৩ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালীন আমার পিতা শহরের বর্তমান পানসি রেস্টুরেন্ট, স্টে শন রোডের পেট্রল পাম্প, শাহজিবাজার পেট্রল পাম্প ও তার পেছনের অংশ, আশিদ্রোন গ্রামে ২২ কেয়ার ফসলি জমি, পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় ১১৪ শতক জমি, মার্কাস মসজিদের পেছনে ১৫০ শতক জমি, শহরের পৌরসভার পোস্ট অফিস এলাকায় ২ বিল্ডিংসহ প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৪ বোন ৭ ভাই। দুই ভাই মৃত। বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আমার ভাই ও মৃত দুই ভাইয়ের সন্তানদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। ভাইয়েরা আমাদের চার বোনকে পিতার বৈধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে নিজেরাই অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। থানা পুলিশ ও আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু আমাদের ভাইয়েরা কোন কিছুই মানছেন না। বরং তারা আমাদের নানা রকম হুমকি দিচ্ছেন। এসব বিষয় নিয়ে শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামাল হোসেনও মীমাংসার অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।’
বিলকিস হাসান বলেন, ‘ভানুগাছ রোডস্থ পানসী রেস্টুরেন্টের জায়গা মাসিক দুই লক্ষ টকায় ভাড়া ও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকায় লিজ এবং আশেপাশে দোকান ভাড়া ও জামানতের লাখ লাখ টাকা নিয়েও আমাদের কোন অর্থ দেয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর আমরা সেই সময় পানসি হোটেলের নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসকে নিকট আবেদন করি। এর প্রেক্ষিতে পানসি স্থাপনা নির্মাণ কাজ দীর্ঘ ৬ মাস বন্ধ থাকার পর পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে পানসি আবার চালু করে। এ বিষয়ে আমাদের কোন কিছু না জানিয়ে পৌরসভা কিভাবে অনুমোদন দিয়েছে।’
‘একপর্যায়ে গত ৪ মার্চ আমি মৌলভীবাজার আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করি। এর পর দিন ৫ মার্চ আদালত কর্তৃক ‘শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার নেটিশ’ একটি জারি করে। নোটিশে বিবাদমান জায়গায় অনুপ্রবেশ, স্থাপনা নির্মান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে উভয় পক্ষকে দলিলাদি নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আমার কয়েকজন ভাই আদালতে হাজির হয়নি। তারপরও আমার ভাইয়েরা আদালতের হুকুম অমান্য কারে স্থাপনা নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩ জুলাই আমি আমার ছেলেকে নিয়ে পানসি রেস্টুরেন্টের পেছনে জালালিয়া রোডের অংশে মার্কেট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জমিতে যাই। বিকাল ৪টার দিকে বিএনপি নেতা নূর আলম সিদ্দিকী, একজন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ সাহেব নিয়ে আমার বড় ভাই মফিজ উদ্দিন ও আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে আমাদের কাজ করতে নিষেধ করে। তারা চলে যাবার পরপরই আমার ভাই মফিজ উদ্দিন আমাদের উপর আক্রমণ ও আমার ছেলে কাইফ হাসানকে লাঠিপেটাও করে।’
‘আমার বড় ভাই সামসুদ্দিন মারা যাওয়ার আগে জমির ভাগ বাটোয়ারা না হওয়ায় আমাদের চার বোনকে পোস্ট অফিসের ২টি ভবন ও পূর্বাশা এলাকায় মৌখিকভাবে দিয়ে রাখেন। এর একটি বিল্ডিং মার্কেট আকারে ভাড়া দেয়া হয়েছে। অপর একটি বিল্ডিং আমার দুই বোনকে দেয়া হয়। আরেক বোনকে পূর্বাশা এলাকায় একটি জায়গা বরাদ্দ করে দেয়া হয়। কিন্তু আমার ভাইয়েরা আমাকে দেয়া ভবনের একটি অংশের বেশ কয়েকটি দোকান জোর করে অন্য ব্যবসায়ীদের ভাড়া দিয়ে দেয়। দোকান ব্যবসায়ীরা ভাড়া না দিয়ে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির কাছে বিচার দিলেও আমার ভাইয়েরা উল্টো আমার দখলে থাকা বিল্ডিংয়ের অংশ দাবি করে।’
বিলকিস হাসান বলেন, ‘আমার ভাইয়েরা আমাদের জানিয়েছেন, তারা মৌখিকভাবে আমাদের বোনদের যে জায়গা দিয়েছে তা নিয়ে খুশি থাকতে। এর বাহিরে তারা কোন জায়গা দিবে না। আমার প্রশ্ন পিতার উত্তরাধীকার সূত্রের জমি ভাইয়েরা খুশি হয়ে দেয়ার কোন অধিকার রাখে কিনা?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করি। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে শ্রীমঙ্গলে বসবাস করে। এ কারণে আমার ভাই ও ভাইয়ের ছেলেদের অব্যাহত হুমকির মুখে ছেলে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বর্তমানে আমরা দেশের প্রচোলিত আইন ও বিধান মতে বাবার পৈত্রিক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকার হওয়া সত্ত্বেও আমার ভাই ও মৃত ভাইয়ের সন্তানরা আমাদের বঞ্চিত করে রাখার চেষ্টা করছেন। আমরা আমাদের ভাইদের কাছে করুণা চাই না। একজন রেমিট্যান্স প্রদানকারী হিসেবে দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা আমি আমার নাগরিক অধিকার, সরকারি সবরকম বৈধ সুযোগ সুবিধার দাবি রাখি। তাই একজন পিতার কন্যা হিসেবে আমি আমার পিতার সম্পত্তির ন্যয় সঙ্গত অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে বিলকিস হাসানের বোন জাকিয়া হাসান ও ছেলে কাইফ হাসান এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং নিজের পৈতৃক সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ দখলস্বত্ত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
কেকে/এমএ