আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শুরু চলছে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬।
ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট(ডিএই পার্ট) প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে গত মঙ্গলবার উদ্বোধন করা হয় কৃষি প্রযুক্তি মেলা। তবে উদ্বোধনের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে প্রত্যাশিত দর্শনার্থীর অভাবে মেলা ছিল অনেকটাই প্রাণহীন।
তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা ১৩ টি স্টল নিয়ে আয়োজন করা হলেও বেশির ভাগ স্টলেই ছিল না দর্শনার্থীর ভিড়। বুধবার বিকেল পর্যন্ত অনেক স্টলে তেমন কোনো বেচাকেনাও হয়নি। বেশিরভাগ স্টল খালি পড়েছিল, চোখে পড়েনি উপজেলা কৃষি অফিসের তেমন কাউকেই। তবে আলী আকসার খান নামে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে একনজর দেখা গেলেও পরে তিনিও চলে যান।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে উন্নত জাতের ধান ও সবজির বীজ, কৃষিযন্ত্র, ফলদ ও বনজ গাছের চারা, জৈব সার এবং কৃষির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। কিন্তু দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম থাকায় স্টলসংশ্লিষ্টদের বেশির ভাগ সময় অলস বসে থাকতে দেখা যায়।
দ্বিতীয় দিন বিকালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে কথা হয় পৌর শহরের রিয়াদ মিয়া ও মাইজবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ হাসানের সাথে। তিনি বলেন, উপজেলায় কৃষি প্রযুক্তি মেলা হচ্ছে আমরা আপনার মুখ থেকেই প্রথম শুনলাম। অথচ বিগত সময়ে কৃষি প্রযুক্তি মেলা হতো উৎসবমুখর এবং দর্শনার্থী,ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড় লেগেই থাকতো। অনেকদিন আগে থেকেই প্রচারণা চলতো।
মেলায় আসা আরও কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, কৃষকদের জন্য এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রচারণার অভাব স্পষ্ট। অনেক কৃষকই মেলার খবর জানেন না। প্রচারণা কম হওয়ায় মানুষই জানে না যে এখানে মেলা হচ্ছে। তাই দর্শনার্থীও নেই, বিক্রিও নেই।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বনরাজ হর্টিকালচার নার্সারির মালিক মহররম আলী বলেন, মেলায় লোকজনের উপস্থিতি খুবই কম। বেচাকেনাও একদম কম। এমন পরিস্থিতিতে স্টল দিয়ে লাভের চেয়ে খরচই বেশি হচ্ছে। মেলার চেয়ে নার্সারিতেই বেশি বেচাকেনা হয়।
উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের হোসাইন নার্সারির প্রতিনিধি ফারুক মিয়া বলেন, এবার মেলায় তেমন লোকজন নেই। মেলার মাঠ ফাঁকা পড়ে আছে। আগে কখনো এমন মেলা দেখিনি। এবার বেচাকেনাও খুব কম।প্রতিদিনের খচর তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানো এবং কৃষিতে নতুন উদ্ভাবন ছড়িয়ে দেওয়াই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য। প্রথম দুই দিনে দর্শনার্থী তুলনামূলক কম থাকলেও আমাদের প্রচারণায় কোন ঘাটতি ছিলো না।পর্যাপ্ত মাইকিং এবং নানাভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে। শেষ দিনে কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
স্থানীয়দের মতে, মেলার ব্যাপক প্রচারণা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের আমন্ত্রণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হলে এমন আয়োজন আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর হতে পারত।
কেকে/ এমএস