বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ইরানে দফায় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা      আজ জুলাই শহীদ দিবস : নির্ভিক আবু সাঈদের রক্তে অগ্নিগর্ভ দেশ      ডিফেন্সিভ কৌশল নিয়ে সমালোচনা, জবাব দিলেন টুখেল      সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী      ঋণনির্ভর নয়, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী      শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের লংমার্চ      রাজধানীর উত্তরার সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ পুলিশের       
খোলাকাগজ স্পেশাল
চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৫, বিধস্ত অর্ধলক্ষ বসতঘর
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪১ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ভেসে উঠছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। কোথাও বসতঘর ধসে পড়েছে, কোথাও ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট। বানের তোড়ে তছনছ হয়েছে বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত ও ফসলি জমি। ভেসে গেছে মাছের ঘের ও প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার মাছ। ধ্বংস হয়েছে পোলট্রি খামার। পানি নামা জনপদজুড়ে এখন শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। ঘরে ফিরে শেষ সম্বল বসতভিটা বিধ্বস্ত দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেকে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি কর্মহীন মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এদিকে বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় শত শত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার মানুষ। তবে এখনো বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও কক্সবাজারের কিছু এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

পানিবন্দি মানুষের বড় একটি অংশ ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন না। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন। আবার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতিবেশীর পাকা ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল রক্ষার আশায় ঝুঁকি নিয়েও অনেকে পানিবন্দি বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর সূত্রে জানাযায়, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় অন্তত ৪৪ হাজার ৪০০টি বসতঘর বিধস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যা ও দুর্যোগজনিত ঘটনায় পাঁচ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। 

পাহাড়ধস ও বন্যায় ভেসে গিয়ে ৫৫ নিহত ও আহত ৩৯ :

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যায় ৫৫ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত ১৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। কক্সবাজার জেলায় নিহত ৩১ জন এবং আহত ২৪ জন। নিখোঁজ রয়েছে ১ জন। বান্দরবানে ৬ জন নিহত এবং ২ জন আহত। রাঙামাটিতে নিহত ৩ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন আহত হন।

পাঁচ জেলায় ৪৪ হাজার ৪০০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত : 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় পাঁচ জেলায় ৪৪ হাজার ৪০০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১৫ হাজার ২২৩টি, কক্সবাজার জেলায় ১১ হাজার ২৭৮টি, রাঙামাটি জেলায় ৪৮৩টি, খাগড়াছড়ি জেলায় ১ হাজার ৪০টি এবং বান্দরবান জেলায় ১৬ হাজার ৩৭৬টি।

চট্টগ্রামে বন্যায় ভেসে গেছে ৯৯৩৩টি পুকুর-দিঘির মাছ :

পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর-দিঘি এবং ৩২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, জেলার পটিয়া উপজেলায় বন্যায় ১৫টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুর ও দিঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে রাউজান উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৯০টি, চন্দনাইশে ১০টি ইউনিয়নের ৩৮৩টি, লোহাগাড়ায় ৯টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০টি, মীরসরাইয়ে ৩টি ইউনিয়নে ৯৭টি, সীতাকুণ্ডে ৩টি ইউনিয়নে ১০টি, সন্দ্বীপে ১৩টি ইউনিয়নে ৪১২টি, বোয়ালখালীতে ৯টি ইউনিয়নে ৭৫৬টি, আনোয়ারায় ১১টি ইউনিয়নে ১ হাজার ১০০টি, বাঁশখালীতে ১৪টি ইউনিয়নের ২৫০০টি, ফটিকছড়িতে ১৮টি ইউনিয়নে ৫৩৩টি, হাটহাজারীতে ৮টি ইউনিয়নে ১৭০টি, কর্ণফুলীতে ৫টি ইউনিয়নে ৫৫৭টি এবং রাঙ্গুনিয়ায় ১২টি ইউনিয়নে ২৭০টি পুকুর-দিঘির মাছ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার ১৫টি উপজেলায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ৩ হাজার ২১১ দশমিক ৯২ হেক্টর পুকুর-দিঘি ও ৯০০ হেক্টর মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ক্ষতি হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এ ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

গবাদি পশুতেও বড় ক্ষতি :

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা। এসব এলাকায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০টি গরু, ৪ হাজার ১৪৮টি মহিষ, ১ লাখ ১২ হাজার ৬৫৫টি ছাগল, ২৪ হাজার ৭৯৫টি ভেড়া, ১১ লাখ ৯১ হাজার ২০টি মুরগি এবং ২৪ হাজার ২৮টি হাঁস বন্যার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৫টি গরু, ১২৩টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ১ হাজার ১৯৮টি মুরগি এবং ১ হাজার ৫২১টি হাঁস। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫টি গবাদি পশুর খামার ও ৬৩টি হাঁস-মুরগির খামার। নষ্ট হয়েছে ১১৮ টন গোখাদ্য।

৬৩টি সড়কে প্রায় ২১২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত :

চট্টগ্রাম জোনের আওতাধীন অন্তত ৬৩টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১২ কিলোমিটার। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, সড়কধস, জলাবদ্ধতা ও সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি মেরামতের মাধ্যমে অধিকাংশ সড়কে চলাচল আংশিক বা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবু কয়েকটি স্থানে এখনো ঝুঁকি রয়ে গেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক ভবনে স্থাপিত বন্যা তথ্য কেন্দ্রের ১২ জুলাই পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি-এ ছয়টি সড়ক বিভাগের আওতায় ক্ষয়ক্ষতির এ হিসাব পাওয়া গেছে।

অনেক এলাকায় এখনো পানি পুরোপুরি না নামায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। পানি নেমে গেলে বিস্তারিত পরিদর্শনের মাধ্যমে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি এবং স্থায়ী মেরামতের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে জনদুর্ভোগ কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন সওজের প্রকৌশলীরা। বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের মোট ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে ৩৩ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৩৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১৪৩ দশমিক ৪৪৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জেলা সড়ক, যেগুলোর ওপর স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

সড়ক বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ। সেখানে ৭৩ দশমিক ৮০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বান্দরবান, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পরিমাণ ৫৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম বিভাগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সড়ক। এ ছাড়া কক্সবাজারে ১৫ দশমিক ১৪ কিলোমিটার, খাগড়াছড়িতে ১১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার এবং রাঙামাটিতে ২ দশমিক ৬০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, কয়েক দিনের এ টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পাহাড়ি জেলাগুলোতে একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে এবং বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। খাগড়াছড়ির জালিয়াপাড়া-সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়কের পংখীমুড়া এলাকায় এবং বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বান্দরবান-রোয়াংছড়ি-রুমা সড়কেরও কয়েকটি অংশ ধসে গিয়ে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ জাতীয় মহাসড়ক (এন-১), চট্টগ্রাম (অক্সিজেন)-হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়ক (এন-১০৬), চট্টগ্রাম (মোহরা)-চন্দ্রঘোনা আঞ্চলিক সড়ক (আর-১৬৩) এবং রাঙামাটি (ঘাগড়া)-চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়। কোথাও পাহাড়ধস, কোথাও আবার একটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।

সওজ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই প্রতিটি সড়ক বিভাগে জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করছেন। পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পাহাড়ধসে সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি সরানো, বালিভর্তি বস্তা ও প্যালিসাইডিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সুরক্ষিত করা এবং ইটের খোয়া ফেলে জরুরি মেরামতের কাজ চালানো হচ্ছে। বিভাগীয় ব্যবস্থায় মেরামতযোগ্য অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করায় অধিকাংশ সড়কেই যান চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সড়কগুলোতেও দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক স্থানে এখনো পানি পুরোপুরি নামেনি। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। পানি সরে গেলে বিস্তারিত পরিদর্শনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং স্থায়ী মেরামতের ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান বলেন, ‘বিভিন্ন সড়ক বিভাগ থেকে আমরা ক্ষয়ক্ষতির একটা হিসাব পেয়েছি। অনেক সড়কে এখনো পানি থাকায় সেগুলোর তথ্য পেতে আরো সময় লাগবে। ক্ষতির তথ্য যৌথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়ন শেষে মেরামত কর্মসূচি অনুমোদন করা হবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের জন্য আমরা দরপত্র আহ্বান করব।’

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় মোট ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায় ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেবে ওআইসির সদস্যভুক্ত ১৮ দূতাবাস :

চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও সিলেটের দুই হাজারের বেশি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবে বাংলাদেশে নিযুক্ত অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সদস্যভুক্ত ১৮টি মুসলিম দেশের দূতাবাস। ত্রাণসামগ্রী প্যাকেটজাত করার কাজ চলমান রয়েছে ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসে। গতকাল দূতাবাসে গিয়ে দেখা যায়, ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্যাকেট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে স্বেচ্ছাসেবী ও দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মীরা।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  চট্টগ্রামের বন্যায় প্রাণহানি   বিধস্ত বসতঘর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close