সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: অনুসন্ধানে অবহেলার মাশুল দিচ্ছে দেশ      আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
অনলাইন জুয়ার আড়ালে সক্রিয় অর্থ পাচারচক্র
প্রণব আচার্য
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

অনলাইন জুয়া, বেটিংয়ের আড়ালে দেশে গড়ে উঠছে ভয়ংকর অর্থপাচারচক্র। চক্রটি জুয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা পাচার করছে দেশের বাইরে। সর্বশেষ গত শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিবি জানিয়েছে, জুয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল চক্রটি। তাদের মাধ্যমে মাসে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার হতো। এর আগেও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং আইনত নিষিদ্ধ। সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫-এর ২০ ধারায় সাইবারস্পেসে জুয়া-সংক্রান্ত পোর্টাল, অ্যাপ, ডিভাইস বা কার্যক্রম তৈরি, পরিচালনা, অংশগ্রহণ, সহায়তা কিংবা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জুয়া এখন শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি আর্থিক অপরাধেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে। অনলাইন বেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ একাধিক ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘুরে শেষ পর্যন্ত বিদেশে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফলে এ ধরনের লেনদেন শনাক্তে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, জুয়ার অর্থের উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত, সন্দেহজনক ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্রতিরোধে কাজ করছে। বিটিআরসি যখনই কোনো অনলাইন বেটিং বা জুয়ার সাইট শনাক্ত করে, তখনই তা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জড়িত চীনা নাগরিক, মাসে পাচার ২৫০ কোটি টাকা : বাংলাদেশকেন্দ্রিক জুয়ার সাইটে যেসব কোম্পানি কাজ করে তার অধিকাংশই চীনের নাগরিকেরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি কয়েকজন চীনা নাগরিক এ অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। গত শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। এর মধ্যে তিনজনই চীনা নাগরিক।

ডিবি বলছে, ঝর্না নামের এক নারীর ভাড়া বাসা ব্যবহার করে জুয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল চক্রটি। তাদের মাধ্যমে মাসে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার হতো। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)।

গতকাল রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকসহ চারজন গ্রেপ্তার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। ওই ফ্ল্যাটটি ঝর্না চাকমা নামে এক নারী ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং ছয় তলা বিল্ডিং পুরাটাই চীনাদের ভাড়া দিয়েছেন।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, একতলায় উনি (ঝর্না) থাকেন। পাঁচটা ফ্লোর উনি চীনের নাগরিকদের ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে চীনারা বিভিন্ন সময় এসে হোটেলের মতো থাকে। তিনি বলেন, আমরা ওই বিল্ডিংয়ের চারতলা এবং পাঁচতলায় যাই। গিয়ে দেখি ওখানে অনলাইন গেটওয়ে জুয়াসহ অন্যান্য প্রতারণামূলক কাজ হয়। সেখান থেকে অনেকগুলো ডিভাইস জব্দ করছি। এই অবৈধ কাজে ব্যবহারের জন্য ১৪টা ল্যাপটপ, ১৬টা মোবাইলসহ ৬ হাজার সিম জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রোভাইডারের সিম ও ২০টি গেটওয়ে মেশিন এবং বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এ সময় নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকাও জব্দ করা হয়।

চক্রটির কাজের প্রক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় মোবাইলে বিভিন্ন মেসেজ আসে। যেখানে বলা হয়, অফার পেতে হলে এখানে ক্লিক করুন, চাকরির জন্য এখানে ক্লিক করুন বা অতিরিক্ত ইনকামের জন্য এখানে ক্লিক করুন। আপনি যখন ওখানে ক্লিক করবেন তখন আপনার কাছে অফার আসে। এই অফারগুলোর জন্য আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হবে সেটা গেটওয়ের জন্য প্রায় ৬ হাজার সিম ব্যবহার করে। আমরা ৬ হাজার সিম পেয়েছি এবং প্রোভাইডারের প্রায় ১০-১২ হাজার সিমের যে স্লটগুলো আছে সেগুলো পেয়েছি। চক্রটি একটা মোবাইল দিয়ে ১২টা সিম ব্যবহার করে প্রতারণা করত বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করার ফলে চক্রটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এই চক্রকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এক মাসে এই একটা মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে জুয়া ও অবৈধ ইনকামের মাধ্যমে পাচার করা হতো। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছি।

কেকে/এলএ




আরও সংবাদ   বিষয়:  অনলাইন জুয়া   বেটিং   নিয়ন্ত্রণ   আইন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close