ধর্মের বোন পরিচয়ে আস্থা অর্জন করে কম দামে মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাঙ্গাইলের এক নারী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের একটি প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার লেখি স্নাল সুমাইয়া বাদী হয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী লেখি স্নাল সুমাইয়া টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মধুপুর পশ্চিম মাইল এলাকায় একটি খাবারের দোকান পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে কবির ও মাসুদ নামের দুই ব্যক্তি সুমাইয়ার দোকানে চা খেতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন। পরে দোকানের সাইনবোর্ডে থাকা মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সুমাইয়াকে ‘ধর্মের বোন’ বলে সম্বোধন করে তার আস্থা অর্জন করেন। পরে তারা জানান, তাদের এক পরিচিত ‘খালা’ সিলেটে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে চলে আসার সময় তার কাছে কিছু বিদেশি মুদ্রা আসে, যা পরে মার্কিন ডলার বলে জানা যায়। নিজেদের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বলে তারা ডলারগুলো ভাঙিয়ে দিতে সুমাইয়ার সহযোগিতা চান। এমনকি ডলারের ছবিও তার কাছে পাঠানো হয়। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও অন্য একজনের মাধ্যমে সুমাইয়া নিশ্চিত হন যে ছবিতে থাকা মুদ্রাগুলো মার্কিন ডলার। এরপর প্রতারকরা কম দামে ডলার কিনে ভাঙিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে বারবার অনুরোধ ও চাপ দিতে থাকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৬ জুলাই দুপুরে প্রতারকরা সুমাইয়াকে কিশোরগঞ্জ শহরের বড়পুল এলাকায় আসতে বলেন। সেখানে দেখা হওয়ার পর তারা তাকে বড়পুল এলাকার বাঙালিয়ানা রেস্তোরাঁ অ্যান্ড সুইটস-এ খাবার খাওয়ায়। পরে সদর উপজেলার বিন্নাটি মোড়ে অটোরিকশায় নিয়ে গিয়ে কিছুদূর হাঁটিয়ে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠায়। সিএনজির ভেতরেই একটি প্যাকেট দেখিয়ে দাবি করা হয়, এতে মার্কিন ডলার রয়েছে। একই সময় সুমাইয়ার কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
কিছুক্ষণ পর সন্দেহ হলে তিনি প্যাকেটটি খুলে দেখেন, সেখানে কোনো মার্কিন ডলার নেই। পুরো প্যাকেটজুড়ে ছিল শুধু সাদা কাগজ। পরে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী লেখি স্নাল সুমাইয়া বলেন, ‘আমি একজন নব্য মুসলিম। বিষয়টি জেনে তারা আমার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। একপর্যায়ে আমাকে ধর্মের বোন বলে সম্বোধন করে আস্থা অর্জন করে। সেই বিশ্বাস থেকেই তাদের কথামতো কিশোরগঞ্জে আসি। কিন্তু এখানে এসে কৌশলে আমার কাছ থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাসুদ ও কবির আমাকে জানায়, তাদের এক পরিচিত খালার কাছে কিছু মার্কিন ডলার রয়েছে। তারা ডলারের ছবিও পাঠায়। আমার ডলার কেনার কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু তারা বারবার অনুরোধ ও চাপ দিয়ে ডলারগুলো ভাঙিয়ে দেওয়ার কথা বলে। তাদের কথায় বিশ্বাস করেই আমি রাজি হয়েছিলাম। ওই খালার প্রকৃত পরিচয়ও আমি জানি না; তারা শুধু তাকে ‘খালা’ বলেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।’
নিজ উদ্যোগে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রতারিত টাকা উদ্ধারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/ এমএস