মেঘনার অতিজোয়ারে প্লাবিত হয়েছে উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ৯ গ্রামের হাজারো মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির উপকূলীয় জনপদে মেঘনা নদীর অতিজোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে বাঁধের ভিতর ও বাহিরের মানুষ। উজানের পানির চাপ আর অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনার পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
মেঘনার পানিতে রামগতির উপজেলার চর রমিজ, চর আলগী, চর গোসাই, চরগাজী, বড়খেরীর ইউনিয়নের বেশ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
এছাড়া টানা বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে পানির চাপ কিছুটা বেড়েছে বলে দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের।
ভয়ারচর ও বিবিরহাটের নিচু বসতঘর, কাঁচা সড়ক, মাছের ঘের ও কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরে ২-৩ ফুট পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। পানিবন্দি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
রান্না-বান্না, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার মানবিক সংকটে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকসই বেড়িবাঁধ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতি বছরই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
তারা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, লক্ষ্মীপুর পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘জোয়ারের প্রভাবে নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পানি কমে গেলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের কারণে দেশের চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত রয়েছে, ফলে উত্তাল রয়েছে নদ-নদীর পানি।
কেকে/এমএ