নীলফামারীর ডোমার শহর থেকে বসুনিয়ার সাত কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি ৬ বছরেও। সংস্কার কাজ শুরু করে তিন বছর আগে কাজ ফেলে চলে যায় ঠিকাদার। এরপর দীর্ঘ সময় পর ওই ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে কাজের টেন্ডার দিলে নতুন ঠিকাদার কাজ পেলেও কাজ শুরু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার মানুষ।
ঠিকাদারের গাফিলাতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার প্রায় ৯০ শতাংশ জুড়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হলে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সংস্কার কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কটির কিছু অংশের পাকা স্তর ভেঙে রেখে কাজ বন্ধ করে চলে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, কাজ শুরুর আগে কষ্ট করে হলেও সড়কটি দিয়ে চলাচল করা যেত। এরপর ভেঙে রাখার কারণে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের যে অংশ ভালো ছিল সেটিও এখন ভেঙে গেছে। অপরদিকে, খারাপ অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখন বিভিন্ন যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এতে করে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রাস্তা খালে পরিণত হওয়ার রিকশা, ভ্যান ও অটো রিকশার মত সাধারণ যানবাহন উল্টে প্রতিনিয়ত মানুষ আহত হচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলেন, বসুনিয়ার হাট এ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় কেন্দ্র। বিভিন্ন কৃষি পণ্যসহ গরু, ছাগল ক্রয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন এ হাটে। উপজেলা শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়কের কারণে বিপাকে পড়েছেন দূরদুরান্তের ব্যবসায়ীরা। মালামাল পরিবহনের সমস্যায় কমেছে ব্যবসায়ীদের আগমন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষক। অপরদিকে এ পথে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজারের অধিক মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করেন। এলাকার ছেলে-মেয়েরা বাড়ি থেকে যাতায়াত করে ডোমার ও নীলফামারী শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। সড়কটির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও।
৬ বছর আগে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শুরু হয় সড়কটির। এর কিছু দিনের মধ্যে কাজ বন্ধ করে সকল সরঞ্জাম নিয়ে পালিয়ে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। আগে ভাঙ্গ সড়কে ধুলাবালি হতো, এখন বৃষ্টির সময় ভরেছে কাদা পানিতে। এতে করে এলাকার বসুনিয়া হাট থেকে ডোমার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ও অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কাদের নামে এক অটো চালক বলেন, কাজ শুরুর আগে কষ্ট হলেও সড়কটি দিয়ে চলাচল করা যেত। ঠিকাদার কাজ ফেলে রাখায় সম্পূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে’।
তিনি জানান, সড়কের ভালো অংশের দিকে ভেঙ্গে ঠিকাদার কাজ শুরু করেছিলেন। এখন কাজ ফেলে রাখায় সম্পূর্ণ সড়ক ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয় পরেছে।
ডোমার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ওই সড়ক সংস্কারে ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যার প্রক্কলন ব্যয় ধরা ছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ এ ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। ২০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি করতে তারা চুক্তিবদ্ধ হয়। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৪ জুলাই কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে কাজ বন্ধ রাখেন।
ডোমার উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম বলেন, ‘আগের ঠিকাদার কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করায় আমরা তার চুক্তি বাতিল করেছি। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। কাজটি সম্পন্ন করতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে।’
কেকে/এমএ