জীবন বাঁচাতে রক্তদানের গুরুত্ব জরুরি মুহূর্তেই বোঝা যায়। নওগাঁয় সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগ রক্তদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। সেই রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে মানবিক আয়োজন সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ শহরের নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে প্রায় ১৫০ জন রক্তদাতাকে নিয়ে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক রাহাদ হাসান আকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. নাসিমুজ্জামান। প্রধান আলোচক ছিলেন ডাক্তার মো. আব্দুল মতিন।
নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিলো বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব। স্পন্সর হিসেবে ছিলো নওগাঁ পিপলস সিটি এবং জিমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন।
অনুষ্ঠানে মো. নাসিমুজ্জামান বলেন, “আমার শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ আমাকে আনন্দিত করেছে। আশা করি, তারা ভালো স্টুডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও দেশ ও সমাজের জন্য ভূমিকা রাখবে।”
রাহাদ হাসান আকাশ বলেন, “ঢাকার মতো বড় শহরগুলোতে রক্তের খোঁজ পাওয়া যতটা সহজ, মফস্বল বা জেলা শহরগুলোতে সেই লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। প্রত্যন্ত অঞ্চলে রক্তদাতার অভাব, যাতায়াতের সমস্যা এবং রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে বহু রোগীকে চরম সংকটে পড়তে হতো। এই সংকট দূর করতে এবং নওগাঁ জেলায় রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণ না যায়, সেই স্বপ্ন নিয়ে একঝাঁক তরুণের হাত ধরে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগের বেশি রক্তদান করতে সক্ষম হয়েছি।”
মো. আব্দুল মতিন বলেন, “নিয়মিত রক্তদান কেবল অন্যের জীবনই বাঁচায় না, বরং রক্তদাতার নিজের শরীরের জন্যও এটি অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত রক্তদান করলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে , রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং ফুসফুস, লিভার ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করে।”
তিনি আরও বলেন, “রক্ত দেওয়ার পর শরীরের অস্থিমজ্জা নতুন রক্তকণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপিত হয়, ফলে শরীরে নতুন এবং কর্মক্ষম লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় যা শরীরকে প্রাণবন্ত করে তোলে। এ ছাড়া, প্রতিবার রক্তদানের পূর্বে রক্তদাতার শরীরের রক্তচাপ, পালস, ওজন এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরীক্ষার পাশাপাশি হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস এবং এইচআইভির মতো পাঁচটি মারাত্মক রোগের স্ক্রিনিং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। আমাদের তরুণদের উচিত নিয়ম মেনে নিয়মিত রক্তদান করা।”
অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীরা তাদের রক্তদানের গল্প বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের উপদেষ্টা কাজী মো. আতিকুর রহমান, কাজী আলমগীর, আব্বাস আলী, আরমান হোসেন রুমন, সাজু রহমান সুজন, শাহনেওয়াজ রক্সি, দুলাল হাসান, পলাশ হাসান, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া আফরিন, রিজভী আহম্মেদ রিজোয়ান, সূচনা আফরিন, বর্ষা, কাজী জেরিন, স্নেহা নন্দী, সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, নওগাঁ ব্লাড সার্কেল ২০১৭ সাল থেকে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিনামূল্যে রক্তদান, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সেবা, পাঠাগার পরিচালনা, দূর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, বৃক্ষরোপণসহ তারুণ্যের ইতিবাচক বিকাশে সংগঠনটি কার্যক্রম চালিয়ে থাকে।
কেকে/এমএ