জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় আলোচিত মিষ্টি আক্তার ও সেনাসদস্য জীবন মিয়ার প্রেমের ঘটনায় দীর্ঘ ১০ দিন অনশন, বিয়ের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ, শালিশ বৈঠকের পর কোনো সমাধান না আসায় এ বার থানায় মামলা করেছেন প্রেমিকা মিষ্টি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মিষ্টির বাবা খশরু মিয়া বাদি হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় অপহরণ, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলায় সেনাসদস্য জীবন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মিষ্টি আক্তারকে অপহরণ, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিয়ের কথা বলে মিষ্টি আক্তারকে স্থানীয় একটি বাজার থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান সেনাসদস্য জীবন মিয়া। পরে মিষ্টিকে বাড়িতে রেখে জীবন মিয়া চলে গেলে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন মিষ্টি।
মিষ্টি আক্তার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের খশরু মিয়ার মেয়ে। তিনি ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে জীবন মিয়া উপজেলার তারাটিয়া-পোড়াভিটা জলব্রিজ এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে এবং সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছে।
মিষ্টির পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে মিষ্টির সঙ্গে জীবন মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর মিষ্টি আক্তারকে জীবন মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মিষ্টি বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় তার উপর শারীরিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান। এদিকে জীবন মিয়া পলাতক থাকায় জীবন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ সব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মিষ্টি দীর্ঘ ১০ দিন জীবন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা ও বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একপর্যায়ে মিষ্টির নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিয়ের দাবিতে স্বজন ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।
পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিষ্টির পক্ষে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিষয়টির আইনগত সমাধানের দাবি জানান।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মিষ্টি ও জীবন মিয়ার প্রেমের ঘটনায় মিষ্টির বাবা খসরু মিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই