মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুটি প্যাকেজ ঘোষণা      বিশ্বে ২৯ মিলিয়ন শিশু এখনও হামের টিকার সুরক্ষার বাইরে      আ.লীগের সাজাপ্রাপ্তদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার      কাঁপছে দিল্লির মসনদ      যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম      মিত্রদের ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার      ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভেজাল : আট পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
বদলে যেতে পারে ভবিষ্যতের ডিজিটাল শক্তির মানচিত্র
বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা: চীনের নেতৃত্বে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জোট
প্রফেসর ড. শাহ জে মিয়া
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ পিএম আপডেট: ২১.০৭.২০২৬ ১:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে, যখন একটি জাতিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই সিদ্ধান্তটি জাতির পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আমাদের বলে দেবে, আমরা কি জাতি হিসেবে পরিবর্তনের দর্শক হব, নাকি পরিবর্তনের অংশীদার হব। উদাহরণ হিসেবে আমি বলতে পারি, শিল্পবিপ্লবের সূচনালগ্নে যারা সঠিক সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তুতি নিয়েছিল, তারা বিশ্বের অর্থনৈতিক নেতৃত্বে এগিয়ে গিয়েছিল। এমনকি ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সালের ডিজিটাল বিপ্লবের সময় যারা প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছিল, তারা নতুন অর্থনীতির শক্তিশালী অংশ হয়ে উঠেছিল। আজ আবার তেমনই একটি সময় এসেছে। এবার পরিবর্তনের হাতিয়ার হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বহুমাত্রিক ব্যবহার। এটা এমন একটি যুদ্ধ, যে যুদ্ধের শব্দ শোনা যায় না। এখানে সীমান্তে সৈন্য নেই, আকাশে যুদ্ধবিমান নেই, কামানের গোলা নেই। কিন্তু গবেষণাগার, ডেটা সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চলছে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের লড়াই। এবং প্রায় সব দেশের সরকার এ নেতৃত্বের লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত।

সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (WAIC) সেই লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ঘোষণা করেছেন যে, এআই কোনো একক দেশের একচ্ছত্র সম্পদ হওয়া উচিত নয়। এই প্রযুক্তির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২৯টি দেশের অংশগ্রহণে গঠিত হয়েছে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা (World Artificial Intelligence Cooperation Organization)। এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি শাসনব্যবস্থা নিয়ে একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ। একসঙ্গে যদি ২৯টি দেশের সমস্ত ডেটা ব্যাংক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন মডেলের প্রশিক্ষণে (মডেল ট্রেনিংয়ে) সমন্বয় সাধন করে, তাহলে নিঃসন্দেহে অনেক জ্ঞানসমৃদ্ধ আউটপুট আমরা দেখতে পাব।

বিশ্বের শক্তির ইতিহাস মূলত সম্পদ ও সক্ষমতার পরিবর্তনের ইতিহাস। একসময় যে জাতির হাতে বেশি জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল, তারাই প্রভাবশালী ছিল। পরে শিল্পবিপ্লবের যুগে যার উৎপাদনক্ষমতা, কারখানা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বেশি ছিল, তারাই অর্থনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছে। এরপর তেল ও জ্বালানি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে নতুন সম্পদের নাম ডেটা। মানুষের আচরণ, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্তের বিশাল ভাণ্ডারকে কাজে লাগানোর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যে দেশের কাছে উন্নত গবেষণা, বিপুল তথ্যভাণ্ডার এবং দক্ষ প্রযুক্তিবিদ থাকবে, ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও বিশ্ব প্রতিযোগিতায় সেই দেশ তত বেশি এগিয়ে থাকবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়নের একটি মাধ্যম নয়; বরং এটি কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কৃষক সঠিক সময়ে ফসল উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, চিকিৎসক দ্রুত রোগ শনাক্ত করতে পারবেন, শিক্ষার্থীরা পেতে পারে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শেখার সুযোগ, আর শিল্পখাত হতে পারে আরও দক্ষ ও উৎপাদনশীল। তাই এখন এটি শুধু কম্পিউটার বা সফটওয়্যারের বিষয় নয়। এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা, অর্থনৈতিক শক্তি এবং বৈশ্বিক অবস্থানের অন্যতম প্রধান নির্ধারক। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে। এই প্রতিযোগিতা শুধু নতুন প্রযুক্তি তৈরির লড়াই নয়; এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের লড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির ভিত্তি হলো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—গুগল, অ্যাপল, টেসলা, ওপেনএআই, এনথ্রপিক, উন্নত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি। অন্যদিকে চীনের বড় শক্তি হলো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুল ডেটা, শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি পরিকল্পনা। দুই দেশই উপলব্ধি করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতৃত্ব শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এনে দেবে না; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব তৈরি করবে।

চীনের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো দেখে আমরা বুঝতে পারছি যে, বেইজিং শুধু এআই প্রযুক্তির উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং ভবিষ্যতের এআই ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নত চিপ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ফলে এআই এখন দুই দেশের মধ্যে একটি নীরব কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব আগামী দিনের বিশ্বব্যবস্থায় গভীরভাবে পড়বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে চীন প্রযুক্তিকে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে না; বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছে। চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কূটনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অংশীদার করা।

এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ এখনো উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা অবকাঠামো ও ডিজিটাল সক্ষমতার দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। চীন বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা যেন শুধু কয়েকটি উন্নত দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য প্রযুক্তির সুযোগ উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমানো বর্তমানে বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এর সঙ্গে রয়েছে একটি বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতা। যে দেশ ভবিষ্যতের প্রযুক্তির নিয়ম, মানদণ্ড ও পরিচালন কাঠামো তৈরিতে প্রভাব রাখতে পারবে, বিশ্বব্যবস্থায় তার অবস্থানও তত শক্তিশালী হবে।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা (WAICO) শুধু প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি ভবিষ্যতের এআই কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। গত ২০২৬ সালের ২৬ জুলাই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা (WAICO) গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চীন দেশগুলোকে উদ্ভাবনে সহযোগিতা গভীর করতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা উন্মোচনে সহযোগিতা বাড়াতে এবং যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে উৎসাহিত করতে চায়।

সংস্থাটির লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং বুদ্ধিমত্তার ব্যবধান দূর করা। চীন বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন করতে চায়। দেশটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডার বাস্তবায়নকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সমানভাবে উপকৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে চায়। সংস্থাটির আরেকটি লক্ষ্য হলো উন্নত সমন্বিত শাসনব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা এবং ভালোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিশ্চিত করা। এটি সদস্য দেশগুলোর চাহিদা ও ভিন্নতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালনার জন্য পর্যায়ক্রমে একটি বৈশ্বিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মান তৈরি করার আশা রাখে। এটি সার্বভৌমত্বের নীতিকে সম্মান করা এবং জাতিসংঘকে এর কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ওপরও জোর দেয়। সংস্থাটির সদর দপ্তর সাংহাইতে হবে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করবে।

এই পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়াবে, এটি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি পরিবর্তনের কথা নিয়ে সামনে এসেছেন, যার নাম ৩১ দফা; যেখানে তিনি বাংলাদেশকে আধুনিকতার ছোঁয়া প্রদান এবং রূপান্তরের কথা বলেছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার মানুষ। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী যদি আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশই থাকবে না; প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রযুক্তি সহযোগিতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। চীনের এআই অবকাঠামো, গবেষণা অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে নিজের গবেষণা সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাও গড়ে তুলতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের পৃথিবীতে শুধু প্রযুক্তি কেনা যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তি বোঝা, তৈরি করা এবং পরিচালনার ক্ষমতাই হবে প্রকৃত শক্তি। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিস্তৃত। আগামী দিনে এই সহযোগিতা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা পেতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল দক্ষতা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হলে চলবে না; প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। এআইভিত্তিক স্টার্টআপ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে সেই দেশ, যে জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবে। তাই আমি এখানে দেখছি যে, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানসিকতার পরিবর্তন। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করব, নাকি নিজেরাও প্রযুক্তি তৈরি করব?

একটি দেশের উন্নতি তখনই স্থায়ী হয়, যখন সে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এআইয়ের যুগে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজস্ব গবেষণা, নিজস্ব দক্ষতা এবং নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করা। চীনের নেতৃত্বে নতুন এআই জোট এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা বিশ্বকে একটি নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি আছে বড় সুযোগ। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমরা কি পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকব, নাকি পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নেব। এআইয়ের যুগে সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো খনি নয়, কোনো তেলক্ষেত্র নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষের মেধা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার বিষয় হলো আমাদের তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশ যদি তার তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তির শক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, তাহলে নতুন বিশ্বব্যবস্থায় নিজের জন্য একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ, গবেষণা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাভিত্তিক শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি তৈরি করা গেলে দেশের কোটি মানুষের কাছে প্রযুক্তির সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। কৃষি, স্বাস্থ্য ও জনসেবা খাতেও চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতা, তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার একটি আধুনিক, উন্নত ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি দূরদর্শী, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি, যেখানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে। বিএনপি সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার তাই যথাযথই হওয়া উচিত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্প খাতকে শক্তিশালী করা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া। এর মূলে থাকবে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি এবং এটি বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক নীতির মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন এক উন্নয়নের অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে। একটি সফল সরকারের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তার মাধ্যমে। আর সেই লক্ষ্যেই বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে যেতে পারে বলে আমি আশাবাদী।

সূত্র: রয়টার্স (১৭ জুলাই, ২০২৬) এবং প্রথম আলোয় (২০ জুলাই, ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।

প্রফেসর অব বিজনেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড এআই
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের বহিঃবিশ্বে শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী এক্সপার্টিজ গ্রুপের সদস্য।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা   বাংলাদেশ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close