শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার্যকর হবে যেভাবে      বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জঙ্গল থেকে কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার      ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১৫      বাঘা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি      তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু      বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করছে : নাহিদ ইসলাম      এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে : ডা. শফিকুর রহমান      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
পুতুলের পদত্যাগ, ক্ষমতার বলয় থেকে জবাবদিহির কাঠগড়ায়
আবদুল হামিদ মাহবুব
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৯ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগকে নিছক চাকরি ছাড়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাসীন পরিবারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সায়মা ওয়াজেদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার প্রার্থিতাকে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার সমর্থন করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবশ্য তার নিয়োগপ্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্তেও চীনে সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য উপস্থাপনে অসঙ্গতি এবং বাংলাদেশে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরসংক্রান্ত অর্থের বিষয়টি ছিল একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুল, আর জমিটি তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই আইনানুগভাবে পেয়েছিলেন। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। তবে অভিযোগের কারণে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে তিনি বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে ছিলেন। ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের আগে আঞ্চলিক কমিটি তার নিয়োগ বাতিলের সুপারিশও করেছিল।

এখানে মূল প্রশ্নটি শুধু অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নয়। প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে কীভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে প্রার্থী হলেন, তার নির্বাচনের পেছনে রাষ্ট্রীয় প্রভাব কতা কাজ করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কতা স্বচ্ছ ছিল। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পাওয়া অবশ্যই ব্যক্তিগত যোগ্যতার স্বীকৃতি হতে পারে। কিন্তু প্রার্থী যখন রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে থাকা পরিবারের সদস্য, তখন তার যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় আসবে— এটাই স্বাভাবিক।

পুতুলের পদত্যাগকে তাই তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে আলাদা করা কঠিন। তার মা শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ভাই সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ব্যক্তি। খালা শেখ রেহানাও ছিলেন ক্ষমতাসীন পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরিবারের আরেক সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে জমি-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাজা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনা ক্ষমতা, পারিবারিক পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রভাবের সম্পর্ককে আরও আলোচনায় এনেছে।

তবে অভিযোগ ও আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত হলেই তিনি অপরাধী প্রমাণিত হন না। তদন্ত, বিচার এবং আপিলের পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা উচিত। একইভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়— এই তিনটিকেও এক করে দেখা যায় না।

তারপরও শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। একটি পরিবার কীভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, প্রশাসন, ব্যবসা, গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর এত বিস্তৃত প্রভাব তৈরি করেছিল? পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্থানে ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব কতা ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু ব্যক্তিগত জীবনী দিয়ে পাওয়া যাবে না; এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত বিশ্লেষণ।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামল নিয়ে জনঅসন্তোষও একদিনে তৈরি হয়নি। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিরোধী মতের ওপর দমন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে নিয়ে আসার অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ক্ষোভ জমিয়েছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন সেই জমে থাকা অসন্তোষকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। পরে তা সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে।

এই অভ্যুত্থানকে শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। এর পেছনে ছিল রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত হওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুঃশাসন এবং সামাজিক বৈষম্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। মানুষ কেবল একটি নীতির পরিবর্তন চাইছিল না; তারা রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন বদলের দাবি তুলেছিল। সেই দাবির কেন্দ্রে ছিল মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহি।

শেখ হাসিনার পতনের পর তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তার আপিলের সময়সীমা শেষ হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এসব বিচারিক কার্যক্রমের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ন্যায়বিচারের মানদণ্ড এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত ও মামলা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা, জয় ও টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ তদন্ত ও আদালতের বিষয়। কিন্তু অভিযোগের ধারাবাহিকতা ক্ষমতাসীন পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ ব্যবহারের প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।

সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের একটি উচ্চপদে তার নিয়োগ কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য ছিল না; সেটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিফলনও ছিল। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়, তবে তা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রভাবের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তাহলেও তদন্ত ও পদত্যাগের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগব্যবস্থা এবং জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনবে।

বাংলাদেশের রাজনীতির বড় সংকটগুলোর একটি হলো পরিবার ও রাষ্ট্রকে একাকার করে ফেলা। কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতেই পারেন। কিন্তু তখন নিয়োগে স্বচ্ছতা, যোগ্যতার নিরপেক্ষ যাচাই এবং সম্পদের হিসাব আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। কারণ ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সন্দেহও বেশি থাকে, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থার প্রশ্নও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ঐতিহাসিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর নাতনি হওয়া সায়মা ওয়াজেদের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; কিন্তু সেই পরিচয় তার কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে না। বরং পরিচয় যত প্রভাবশালী, জনসম্মুখে দায়িত্ব ও স্বচ্ছতার প্রত্যাশাও তত বেশি।

বাংলাদেশের মানুষ এখন শুধু জানতে চায় না কে কার সন্তান বা কোন পরিবারের সদস্য। তারা জানতে চায়— রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কার স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে?, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে? রাষ্ট্রীয় সুযোগ ও সম্পদ কারা পেয়েছে? ক্ষমতাবানদের সম্পদের উৎস কী? তদন্ত ও বিচার কি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালিত হচ্ছে?

এই প্রশ্ন কোনো এক পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক প্রশ্ন। এক পরিবারের পতনের পর আরেক পরিবার যেন একই ধরনের ক্ষমতার বলয় তৈরি করতে না পারে— এটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ব্যক্তি বদলাবে, কিন্তু ক্ষমতার চরিত্র বদলাবে না।

সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ সে কারণেই একটি প্রতীকী ঘটনা। এটি দেখায়, আন্তর্জাতিক পদ, পারিবারিক পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রভাব— সবকিছু একসময় জনসমালোচনা ও তদন্তের মুখোমুখি হতে পারে। ক্ষমতা থাকলে পরিচয় অনেক দরজা খুলে দিতে পারে; কিন্তু ক্ষমতা চলে গেলে সেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে প্রশ্ন।

এই প্রশ্নের উত্তর প্রতিহিংসার ভাষায় নয়, প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে দিতে হবে। তদন্ত হতে হবে নিরপেক্ষ, বিচার হতে হবে স্বচ্ছ এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষমতাবানদেরও বুঝতে হবে— গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের নাম নয়; গণতন্ত্রের অর্থ হলো ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহি থাকা।

পুতুলের পদত্যাগ তাই শুধু একটি চাকরির সমাপ্তি নয়। এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার উত্তরাধিকার, পারিবারিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। শেষ পর্যন্ত পরিচয়ের চেয়ে বড় দায়িত্ব, ক্ষমতার চেয়ে বড় রাষ্ট্র এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে জবাবদিহি।

লেখক :  সাংবাদিক 

কেকে/সাশ



আরও সংবাদ   বিষয়:  পুতুলের পদত্যাগ   আওয়ামী লীগ   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close