শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার্যকর হবে যেভাবে      বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জঙ্গল থেকে কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার      ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১৫      বাঘা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি      তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু      বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করছে : নাহিদ ইসলাম      এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে : ডা. শফিকুর রহমান      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে জোর দিন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৩ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুরের সুযোগে যে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল, তার পুরোটা এখনো উদ্ধার হয়নি। 

পুলিশ সদর দপ্তরের সবশেষ হিসাব বলছে, লুট হওয়া ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৩০৬টি, আর ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদের মধ্যে অনুদ্ধারকৃত রয়ে গেছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি। অর্থাৎ ঘটনার দুবছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এবং গোলাবারুদের প্রায় ৩৯ শতাংশ এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এ সংখ্যা নিছক হিসাবের গরমিল নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, যা দিনে দিনে আরও জটিল হয়ে উঠছে। উদ্বেগের জায়গাটি শুধু অস্ত্র হারিয়ে যাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেগুলোর ব্যবহারে। একাধিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র একাধিকবার হাতবদল হয়ে সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের কাছে পৌঁছেছে এবং খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও এলাকা দখলের মতো অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ‘গলা কাটা মোবারক’ গ্রেপ্তার অভিযানে পুলিশের দিকে যে পিস্তল দিয়ে গুলি চালানো হয়েছিল, তদন্তে দেখা গেছে সেটিও কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। সায়েদাবাদ, গেন্ডারিয়া, ডবলমুরিং কিংবা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একের পর এক যে ঘটনায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—এসব অস্ত্র এখন সংগঠিত অপরাধের সরবরাহ-শৃঙ্খলের অংশ হয়ে উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রমতে, লুটের সময় থানা-ফাঁড়ি থেকে অস্ত্রের বড় অংশ সংগ্রহ করেছিল কিশোর গ্যাং ও দলীয় ক্যাডাররা, যারা পরে তা কম দামে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করে দেয়। এভাবে হাতবদল হতে হতে অস্ত্রগুলো ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী চক্র, এমনকি জলদস্যু-বনদস্যুদের হাতেও পৌঁছে গেছে।

নিখোঁজ প্রতিটি অস্ত্র এখন সম্ভাব্য একটি অপরাধের উপকরণ। সময় যত গড়াচ্ছে, অস্ত্রগুলো তত বেশি হাতবদল হচ্ছে এবং সেগুলোর উৎস শনাক্ত করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বাস্তবতা আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে সামনের স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে। বেহাত অস্ত্র যদি উদ্ধারের বাইরে থেকে যায়, তাহলে তা ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমরা মনে করি, নিম্নলিখিত পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া প্রয়োজন—  লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে গঠিত বিশেষ ইউনিটের কার্যক্রম আরও জোরদার করে প্রতিটি থানা ও জেলাভিত্তিক অগ্রগতির নিয়মিত জনসম্মুখ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে, যাতে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

উদ্ধার হওয়া প্রতিটি অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা ও হাতবদলের শৃঙ্খল চিহ্নিত করে যারা এসব অস্ত্র বিক্রি বা সরবরাহে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। কিশোর গ্যাং ও দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে অস্ত্র লুণ্ঠন ও পুনর্বিক্রির নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে সরবরাহ-শৃঙ্খল মূল থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়।

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে, যাতে বেহাত অস্ত্র নির্বাচনি সহিংসতা বা কেন্দ্র দখলে ব্যবহৃত হতে না পারে। তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা ও পুরস্কারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে, বিশেষ করে যেসব এলাকা থেকে থানা লুটের ঘটনা ঘটেছিল।

দীর্ঘমেয়াদে থানা ও পুলিশ স্থাপনার অস্ত্রাগার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে এমন কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতায় একযোগে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট হওয়ার সুযোগ না থাকে। 

প্রতিটি অনুদ্ধারকৃত অস্ত্র যত দিন বাইরে থাকবে, তত দিন খুন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি আর নির্বাচনি সহিংসতার শঙ্কা রয়ে যাবে। তাই দ্রুততম সময়ে সমন্বিত ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিয়ে বাকি অস্ত্রগুলো উদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  লুট হওয়া অস্ত্র   উদ্ধার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close