কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর ধনু নদী থেকে তাওহীদ হোসেন (১৪) নামে এক মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান।
এর আগে সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সিংপুর বাজারসংলগ্ন ধনু নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাওহীদের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তাদের সহযোগিতায় নৌকার সাহায্যে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত তাওহীদ হোসেন উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব টেংগুরিয়া গ্রামের গুলজার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তাওহীদ নিখোঁজ ছিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। আশপাশের গ্রাম, আত্মীয়দের বাড়ি, বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতভর উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটান পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সিংপুর বাজারসংলগ্ন ধনু নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে তারা সেটিকে তাওহীদের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি পরিবার ও পুলিশকে জানানো হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকার সাহায্যে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘তাওহীদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।’
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কেকে/ এমএস