চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি মোজাফফর হোসেনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময়ের আবেদন জানান।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মোজাফফর হোসেনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত সংস্থার সুবিধাজনক সময়ে তাকে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে সকালে মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার সেনানিবাসের কারাগারে রয়েছেন।
একই দিনে মামলার অপর আসামি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
এর আগে, ২১ জুলাই প্রসিকিউশন মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে। প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কেকে/ এমএস