গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় বিদেশে পাঠানোর জন্য দেওয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবকের ওপর হামলা, মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা মো. মিলন মিয়া।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মিলন মিয়ার বড় ছেলে পারভেজ হৃদয় প্রায় আট থেকে নয় মাস আগে নরসিংদী সদরের বাসিন্দা মো. সুমন মিয়ার মাধ্যমে রোমানিয়ায় যান। বিদেশে পাঠানোর বাবদ সুমন মিয়ার কাছে এখনও ৮০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। বর্তমানে সুমন মিয়া বিদেশে অবস্থান করায় অন্য অভিযুক্তরা প্রায়ই তাদের বাড়িতে এসে ওই টাকা দাবি করতেন। পাওনাদার ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও কাছে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিলন মিয়ার ছোট ছেলে মেহেদী হাসান মোটরসাইকেলে করে রানীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে রানীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। এ সময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে আহত করেন। পরে জোরপূর্বক তার মোটরসাইকেল অন্যত্র সরিয়ে রাখেন এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
মেহেদী হাসানের চিৎকার শুনে তার মামা আবু কালাম, জাকির হোসেন এবং স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় সুযোগ পেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুরুতর জখম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মো. মিলন মিয়া কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাপাসিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/ এমএস