রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন       সেনাবাহিনীর পদোন্নতিতে মেধা, যোগ্যতা ও সততাই হবে প্রধান বিবেচনা: প্রধানমন্ত্রী      ইরানে নতুন করে হামলা না করার নির্দেশ ট্রাম্পের      ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে ৩০ জুলাই      আজ বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন মো. সাহাবুদ্দিন      ফের আগ্রাসী বিএসএফ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
গ্যাস সংকটকে ‘সাময়িক বিভ্রাট’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় সাড়ে চারশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সর্বত্র আবাসিক চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত। 

তিতাসের কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন, এফএসআরইউ মেরামত হয়ে গেলেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক থেকেই যাবে। অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু একটি যন্ত্রের বিকল হওয়া নয়, বরং চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত অসামঞ্জস্যেরই একটি তীব্র বহিঃপ্রকাশ। এ সংকট নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা একটিমাত্র বা দুটি আমদানিনির্ভর উৎসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, অথচ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে যে মনোযোগ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা কখনোই যথেষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়নি। ফলে সমুদ্রে ঝড় উঠলে, কিংবা কোনো একটি ভাসমান স্থাপনায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই গোটা জাতীয় সরবরাহব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বহুবার বলেছেন, অন্তত পনেরো দিনের মজুত ক্ষমতা এবং একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল থাকা জরুরি, যা সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়াতেও অক্ষত থাকবে। অথচ পরিকল্পিত একটি উদ্যোগ বাতিল হয়ে যাওয়ার তথ্যও এবার সামনে এসেছে, যা প্রশ্ন তোলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মূল্যায়নের ঘাটতি কতটা গভীর। 
গ্যাস সংকটের দায় শুধু একটি প্রকৌশলগত ত্রুটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সহজ, কিন্তু তা বাস্তবতার পুরো চিত্র তুলে ধরে না। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ প্রতিবারই সংকটের সময় আশ্বাস দেয় যে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে, নতুন কূপ খনন হবে, নতুন টার্মিনাল বসবে। কিন্তু বাস্তবে এসব উদ্যোগ যে গতিতে এগোনো দরকার, সে গতিতে এগোয় না। 

একশটি কূপ খননের পরিকল্পনা কিংবা নোয়াখালী ও সুনামগঞ্জে নতুন কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ সন্দেহ নেই, কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। ফলে প্রতিটি সংকটের পর একই প্রতিশ্রুতি পুনরাবৃত্তি হয়, অথচ কাঠামোগত দুর্বলতা থেকেই যায়। এ সংকটের মূল্য সবচেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যে গৃহিণী রান্না করতে পারছেন না, যে সিএনজিচালক দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে আয়ের সুযোগ হারাচ্ছেন, যে কারখানা উৎপাদন সীমিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে তাদের প্রত্যেকের ক্ষতি রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানে হয়তো দৃশ্যমান হবে না, কিন্তু তাদের দৈনন্দিন জীবনে তা গভীর প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি সংকট যখন বারবার ফিরে আসে, তখন তা শুধু প্রকৌশলগত সমস্যা থাকে না, একটি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া  এখন সবচেয়ে জরুরি। এক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে। অবিলম্বে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ পুনরায় চালু করা, যাতে সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়া বা কারিগরি ত্রুটিতে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। অন্তত পনেরো দিনের জাতীয় গ্যাস মজুত ক্ষমতা তৈরি করা, যাতে যে কোনো একটি উৎসের বিভ্রাটে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে। 

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি উৎস ও অবকাঠামো বহুমুখীকরণের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করা, যাতে একক কোনো টার্মিনাল বা উৎসের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা তৈরি না হয়। সংকটকালে আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি স্টেশন ও শিল্পকারখানার মধ্যে সুষম ও স্বচ্ছ বণ্টন নীতি প্রণয়ন করা, যাতে সীমিত সরবরাহের বোঝা একতরফাভাবে কোনো একটি শ্রেণির ওপর না পড়ে। প্রতিবার সংকট এলে তা সাময়িক বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও পরিকল্পনায় মনোযোগ দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close