সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে দুই হাজার ২১৬ টাকা      শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড : হাসিনাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল      জাতিসংঘে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স, প্রচণ্ড বাকযুদ্ধ      বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট ফের শুরু      পাউরুটিতে ক্যানসারের উপাদান ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট’ ব্যবহার বন্ধে রিট      চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে আরেক ব্যবসায়ীর ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণ      হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
বাংলাদেশের রাজস্ব ঘাটতি থেকে মার্কিন জ্বালানি নীতি
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৫১ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বিগত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য অনস্বীকার্য। তবু স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির এ আখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে একটি মৌলিক দুর্বলতা, যা সেই অগ্রগতির স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। অস্বাভাবিকভাবে নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাতই এ দুর্বলতা। জিডিপির মাত্র ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর আদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করছে। যেখানে অনেক নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য উচ্চতর অংশ সংগ্রহ করে এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো গড়ে জিডিপির প্রায় ১৮-২৫ শতাংশ কর হিসেবে আদায় করে, সেখানে বাংলাদেশ একটি সংকীর্ণ ও কাঠামোগতভাবে দুর্বল রাজস্ব ভিত্তি নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও বেশ কয়েকটি সমকক্ষ অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যানগত ঘাটতি নয়, এটি একটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের লাখো উদ্যোক্তা ও শ্রমিক এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। পোশাক, হস্তশিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সেবা খাতের উন্নয়নে এমএসএমই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অপরিহার্য। এ খাত দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। 

একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও উদ্ভাবন বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতেও সহায়তা করে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার এবং ই-কমার্সের বিকাশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন একজন ছোট উদ্যোক্তাও দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছেন। 

অসীম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প খাত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এবং বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা এখনো অনেক উদ্যোক্তার জন্য বড় সমস্যা। তবে সরকারি সহায়তা, সহজ ঋণ সুবিধা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ দেশটির নাগরিকদের কেনাকাটা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। সেসময় অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, বুশ যেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভোগ ব্যয়কে উৎসাহ দিচ্ছেন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তিনি এমন এক অর্থনৈতিক সত্যকে স্বীকার করেছিলেন, যা বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ভোক্তাদের ব্যয়। 

গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির গড়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ এসেছে পারিবারিক বা গৃহস্থালি ভোগ ব্যয় থেকে। এটি এমন একটি ব্যতিক্রমী অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রতিফলন, যা একদিকে ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্যের অনিচ্ছাকৃত ফল। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত একটি সচেতন প্রবৃদ্ধি কৌশলেরও পরিণতি। বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের অবস্থান অনিচ্ছাকৃতভাবেই মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশ্বকে ডলার সরবরাহ করার ফলে যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলতি হিসাবের ঘাটতি বহন করতে পারে। একইসঙ্গে ডলারভিত্তিক সম্পদের উচ্চ চাহিদা ডলারের বিনিময় হারকে শক্তিশালী করে। ফলে মার্কিন রপ্তানি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, আমদানি বাড়ে এবং দেশটির উৎপাদন শিল্পের ক্রম অবনতিতে ভূমিকা রাখে। 

তবে শুধু ডলারের আধিপত্যই নয়, কয়েক দশক ধরে মার্কিন নীতিনির্ধারকরাও নানামুখী নীতির মাধ্যমে পারিবারিক ভোগ ব্যয়কে উৎসাহিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার গৃহঋণের সুদে করছাড়, কর প্রণোদনা এবং বিভিন্ন ভর্তুকি দিয়ে আসছে। ফলে বাড়ির মালিকরা নিজেদের সম্পত্তিকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে আরও বেশি ঋণ নিতে পেরেছেন। একইভাবে আর্থিক খাতকে ঋণের নিশ্চয়তা ও তারল্য সহায়তা দিয়ে সরকার ঋণদানের ঝুঁকি কমিয়েছে। ফলে এমন এক ধরনের আর্থিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে সামর্থ্যরে চেয়ে বেশি ব্যয় করাও স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, অথচ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত বিষয় হলো জ্বালানি নীতির মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার পারিবারিক ভোগ ব্যয়কে টিকিয়ে রেখেছে। উচ্চমাত্রার জ্বালানি ব্যবহার আমেরিকান জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশটিতে বাড়িঘর তুলনামূলকভাবে বড়, ফলে সেগুলো নির্মাণ, গরম রাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে বেশি জ্বালানি প্রয়োজন হয়। 

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় মার্কিনরা বেশি সংখ্যায় এবং আকারে বড় গাড়ি কেনেন, দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালান এবং বেশি পরিমাণে মাংস ও অন্যান্য উচ্চ কার্বননির্ভর পণ্য ভোগ করেন। এ ছাড়া এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর আইনে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে তেল ও গ্যাস শিল্পকে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। বিশাল হাইড্রোকার্বন মজুদের কারণে এসব নীতি উৎপাদনকে চাহিদার চেয়েও বেশি হতে উৎসাহিত করেছে, যার ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে কম রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি খাতের বাস্তবতা বদলে যাচ্ছে। একদিকে মার্কিন পরিবারগুলোর জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ ধারাবাহিকভাবে কমছে। সমস্যা হলো, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সস্তা ও পর্যাপ্ত জ্বালানি যে যুক্তরাষ্ট্রের ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলের ভিত্তি- এটি ঠিকই উপলব্ধি করেন; কিন্তু তিনি সেটিকে জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে এক করে দেখেন। অর্থাৎ ইতিহাসে যে সম্পর্ক ছিল, তাকেই তিনি কারণ-ফল সম্পর্ক হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।

এমন একসময় যখন বিশ্বের অন্য দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বাইডেন প্রশাসনের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের অধীনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার ত্বরান্বিত করতে দেওয়া প্রায় সব কর প্রণোদনাই বাতিল করেছে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো ল্যাবের গবেষণা থেকে পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে ওবিবিবিএর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি ব্যয় ২৮ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে। বিলটি পাস হওয়ার এক বছর পর দেখা যাচ্ছে, সেই পূর্বাভাস বাস্তবায়নের পথেই রয়েছে। এমনকি তা আশাবাদী হিসাবও হয়ে যেতে পারে। কারণ ইরান যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টারের বিস্ফোরণধর্মী সম্প্রসারণ জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় অর্ধেকই এসেছে ডেটা সেন্টার থেকে। এ দ্রুত প্রবৃদ্ধির ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে কিছু অঞ্চলে ভোক্তাদের বিদ্যুৎ বিল ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাম ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে।

২০২৪ সালে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ যথাক্রমে জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ৫৩ শতাংশ এবং ৪১ শতাংশ ব্যয়সাশ্রয়ী ছিল। হরমুজ প্রণালি কয়েক মাসব্যাপী বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চীনে উৎপাদিত সবুজ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে দ্রুত নবায়ন যোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রতি ভোক্তাদের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন ভোক্তানির্ভর অর্থনীতি আর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করে চলতে পারবে না। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য দেশগুলোর পথ অনুসরণ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে। মূলত পর্যাপ্ত জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট পুনরুজ্জীবিত করা হতে পারে এ পথে প্রথম এবং সবচেয়ে স্বাভাবিক পদক্ষেপ। 

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক নীতিনির্ধারকই মনে করেন, চীনের সবুজ প্রযুক্তি নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে চীনা ইনভার্টারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এ উদ্বেগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিদ্যমান উৎপাদন শিল্পকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ইনভার্টারের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান নিজ দেশে উৎপাদন করা এবং একইসঙ্গে নিরাপদ ও কম খরচের উপাদান- যেমন সৌর প্যানেল আমদানি অব্যাহত রাখা। এর জন্য শিল্পনীতি গ্রহণ করতে হবে, তবে সেটি কোনো অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে উপেক্ষা করার দৃঢ় অবস্থান শুধু ব্যয়বহুলই নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও হুমকির মুখে ফেলছে। 

জীবাশ্ম জ্বালানির দাম যখন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, তখন পরিকল্পিতভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে দমিয়ে রাখা শেষ পর্যন্ত সেই প্রবৃদ্ধি মডেলেরই মৃত্যুঘণ্টা বাজাবে, যার ভিত্তি ছিল সস্তা জ্বালানির প্রতিশ্রুতি। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং দক্ষতার সঙ্গে তা বণ্টন করার ক্ষমতার ওপর। কিন্তু এখানেও একটি কাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে। আর্থিক ব্যবস্থা এখানে ব্যাপকভাবে ব্যাংকনির্ভর এবং ব্যাংকিং খাত নিজেই খেলাপি ঋণ, দুর্বল সুশাসন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ঋণের বোঝায় জর্জরিত। এটি উৎপাদনশীল খাতে পুঁজির দক্ষ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। 

ডারোন আসিমোগলু ও জেমস এ রবিনসন তাদের বই ‘হোয়াই নেশনস ফেইল : দ্য অরিজিনস অব পাওয়ার, প্রসপারিটি অ্যান্ড পোভার্টি’-এর জন্য ২০২৪ সালে নোবেল পান। তাদের এ বইয়ের উপসংহার হচ্ছে, কোনো দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য বা ব্যর্থতা ভৌগোলিক অবস্থান, সংস্কৃতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের দ্বারা নির্ধারিত হয় না; নির্ধারিত হয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ও দুর্নীতির কারণে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকারভাবে পুনরুজ্জীবিত না করতে পারলে উন্নয়ন অসম্ভব।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশের রাজস্ব ঘাটতি   মার্কিন জ্বালানি নীতি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close