সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল      ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ       স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে দুই হাজার ২১৬ টাকা      শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড : হাসিনাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল      জাতিসংঘে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স, প্রচণ্ড বাকযুদ্ধ      বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট ফের শুরু      পাউরুটিতে ক্যানসারের উপাদান ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট’ ব্যবহার বন্ধে রিট      
দেশজুড়ে
দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ
এক দশকেও শুরু হয়নি শ্রীমঙ্গল মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ৭:৪৬ পিএম
মৌলভীবাজারে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

মৌলভীবাজারে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রায় ১০ বছর ধরে ঝুলে আছে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় মন্ত্রনালয় থেকে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। গত ৩০ জুন প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হলেও নির্মাণ কাজ এখনো শুরু করাই সম্ভব হয়নি। ফলে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। তবে পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছরের বাড়ানো হয়েছে। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালে প্রথম পর্যায়ে প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে কাজ। ২০২৮ সালে ৩০ জুন এ প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেওয়া প্রকল্পটি তদারকি কাজ করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মসজিদগুলো নির্মাণকারী হিসেবে কাজ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। 

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকা এবং বারবার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রথম ধাপে বরাদ্দ পাওয়ায় অন্যান্য উপজেলার আগে মডেল মসজিদ নির্মিত হবার কথা ছিলো। অথচ অন্যান্য উপজেলায় দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ ধাপে বরাদ্দ পেয়েও তারা এখন মডেল মসজিদে নামাজ পড়ছেন, কিন্তু পর্যটন নগরীতে এখনও নির্মাণ কাজ শুরু করাই সম্ভব হয়নি। জনবহুল এলাকায় মডেল মসজিদটি দ্রুত নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। 

এদিকে দ্রুত মসজিদ নির্মাণের দাবিসহ সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান নিয়ে আলোচনায় সরব হয়ে ওঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্থানীয়দের দাবি, মডেল মসজিদটি যেহেতু আধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন হবে, তাই শহর বা শহরতলীর জনবহুল এবং চমৎকার স্থানে হওয়া জরুরি। যাতে পর্যটক, দর্শনার্থী এবং মুসল্লিদের জন্য সুবিধা হয়। 

কেউ বা শহরের ভানুগাছ রোডের পাশে পরিত্যাক্ত রেলওয়ে জমি, কেউ বা জালালিয়া রোডের পাশে গণপূর্ত বিভাগের (স্টক ইয়ার্ড) পরিত্যাক্ত জমি, কেউ পৌরসভার কালিঘাট রোডের ফিনলে চা কোম্পানির জমি, কেউ হবিগঞ্জ রোডের পল্লী বিদ্যুত অফিসের পাশে পরিত্যাক্ত সরকারি জমিতে মসজিদ নির্মাণের দাবি তুলেছেন। তবে সচেতনমহলের দাবি মেইন রোডের জনবহুল এলাকার পাশের জমি মডেল মসজিদের জন্য উপযোগী হবে। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যায় সুত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার জেলার সাত উপজেলার মধ্যে কমলগঞ্জ, রাজনগর এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং নামাজসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। কুলাউড়া এবং বড়লেখা উপজেলায় মডেল মসজিদ নিমাণ কাজ শেষ হয়ে এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া জুড়ী উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। 

ধর্ম মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা সদরের মসজিদগুলো তিনতলা বিশিষ্ট হবে। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাসহ অজু ও নামাজের জন্য পৃথক জায়গা থাকবে। হজ্ব গমনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ইমাম প্রশিক্ষণকেন্দ্র, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক লাইব্রের, দাফনের আগের আনুষ্ঠানিকতা, কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা, হিফজখানা, দেশি বিদেশি অতিথিদের জন্য থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকবে শৌচাগারের ব্যবস্থা। যেকোন মানুষ এই কেন্দ্র থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য যেসকল কাজ দরকার সব করতে পারবেন।

এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফারুক আলম খোলা কাগজকে বলেন, শ্রীমঙ্গলে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালে প্রথম পর্যায়ে প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এরপর শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ সুরমাভ্যালী মসজিদের পাশে জায়গাও চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু সেখানে স্থানীয় মসজিদ কমিটির বিরোধে মডেল মসজিদ করা সম্ভব হয়নি। এরপর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকায় মডেল মসজিদের জমি নির্ধারণ করে জমি স্থানান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ স্থানটি পরিবর্তনের জন্য স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসায় আবারও নতুন জমি দেখতে হচ্ছে। মূলত জমি সংক্রান্ত জটিলতায়ই কাজটি শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রকল্পের মেয়াদ গত জুন মাসে শেষ হলেও নতুন করে আরও দু’বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
 
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ এর পাশে একটি জমিতে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদটি মেইন রোডের পাশে হলে সবার জন্য ভালো হয়। তাই আমরা এখন নতুন জমি খোঁজছি। তবে ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের হবিগঞ্জ রোডে একটি জমি পাওয়া গেছে। এ বিষয়টি অগ্রাধিকার বিবেচনাপূর্বক তা নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা অব্যাহত আছে। দ্রুত স্থান নির্ধারণে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close