অভাব-অনটনের সংসারে নিত্যদিনের লড়াই। তার ওপর বাকপ্রতিবন্ধকতা—জীবনযাত্রাকে করে তুলেছিল আরও কঠিন। তবে এবার সেই কঠিন জীবনে আশার আলো জ্বালাতে এগিয়ে এলেন এক মানবিক ব্যবসায়ী। হাতে তুলে দিলেন চা বিক্রির ভ্যান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যবসায় শুরুর নগদ পুঁজি।
এভাবেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উজেলার বাকপ্রতিবন্ধী আব্দুল কাদিরকে (৪৫) কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ী মো. মতিউর রহমান মতিন। সহায়তা পেয়ে কাদিরের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি।
শ্রীমঙ্গল শহরের ১০ নম্বর এলাকার জালালিয়া সড়কের মোড়ে অবস্থিত বিসমিল্লাহ গোশতের দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. মতিউর রহমান মতিন দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পশ্চিমভাগ এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী আব্দুল কাদিরের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি চা বিক্রির ভ্যান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যবসায় শুরুর নগদ পুঁজি।
সহায়তার সামগ্রী হাতে পাওয়ার পর কথা বলতে না পারলেও ইশারা-ইঙ্গিতে নিজের আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আব্দুল কাদির। তার মুখের হাসিই যেন বলে দিচ্ছিল—নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। আব্দুল কাদিরের হাতে৷
ভ্যানগাড়ি ও সহায়তা তুলে দেওয়ার আগে শ্রীমঙ্গল মারকাজ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সিরাজের দোয়া পরিচালনার মধ্য দিয়ে ‘কর্মসংস্থান প্রকল্প-২’-এর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অসহায় মানুষকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারা।
মো. মতিউর রহমান মতিন বলেন, ‘এর আগেও আমরা প্রতিবন্ধী খলিলুর রহমানকে সামান্য পুঁজি দিয়ে বাদাম বিক্রির মাধ্যমে একটি কর্মসংস্থান তৈরি করে দিয়েছিলাম। সমাজের এসব পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমার ভালো লাগে।’
তিনি জানান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন।
কেকে/এমএ