চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা আগেই সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার হেয়াকো বাজার চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক রকিবুল আলম চৌধুরী পিটু এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছয় ঘণ্টা কমিয়ে সোমবার রাত ১২টায় শেষ করা হবে।
রকিবুল আলম চৌধুরী পিটু বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামী শনিবার তিন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে হেয়াকোতে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সমাবেশ থেকেই হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, সোমবার ভোর থেকে হরতালের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশসহ উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ থাকে অধিকাংশ দোকানপাট ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী, পরিবহনশ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়। প্রথম দিনে উত্তর উপজেলার দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। দ্বিতীয় দিনেও একই তিন ইউনিয়নে হরতালের প্রভাব অব্যাহত ছিল। ফলে দুই দিন ধরেই এসব এলাকায় যান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই বালুটিলা, সোনাইপুল ও নারায়ণহাট এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা থাকায় সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। হরতালের কারণে অফিসগামী চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। সড়কে যানবাহন না থাকায় অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল বলেন, সদর দপ্তর নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনমত ও বাস্তবতা উপেক্ষা করে ভুজপুর মৌজাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এত অল্প দূরত্বে দুটি উপজেলা সদর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
আন্দোলনকারী মনির হায়দার বলেন, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; এটি উত্তর ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হরতাল চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কেকে/ এমএস