সরকারি দপ্তরে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, থানা, ভূমি অফিস, ঋণ অফিস, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির অল্প কিছু নেতাকর্মী প্রভাব বিস্তার করছে। সরকারি অফিস জনগণের সেবা দেওয়ার জায়গা। সেখানে দলীয় প্রভাব ও অপব্যবহার চলতে থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, “যদি এইভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, হাসপাতালের সেবা নষ্ট হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান কমে যায়, তাহলে আপনাদের সন্তানরাও এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে না। তাই জনগণের স্বার্থে দলীয় অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।”
তিনি বলেন,“গতকাল আমরা ময়মনসিংহের ভালুকায় গিয়েছিলাম। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য বাচ্চুর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, বিএনপির লোকজনই তাঁকে চাঁদাবাজ, ক্যাডার ও দখলদার বলে অভিযোগ করে। এমনকি বিএনপি থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ এমন একজন ব্যক্তি আজ সংসদ সদস্য।”
তিনি বলেন, “আজ আমরা তাড়াইলে এসেছি। এখানকার সংসদ সদস্য ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জেনেছি, ব্যক্তি ও একজন একাডেমিক হিসেবে তিনি ভালো মানুষ। মানুষ তাঁকে সেই বিশ্বাস থেকেই ভোট দিয়েছে। তবে শুধু ব্যক্তিগতভাবে ভালো হলেই হবে না। যদি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত ভালোত্বের কোনো মূল্য থাকবে না।”
সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, “তারাইলে বিএনপির অল্প কিছু নেতাকর্মীর অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। এমপি যদি তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে আগামী নির্বাচনে মানুষ তাঁর দিকেও ফিরে তাকাবে না।”
তিনি বলেন, “এর আগে কিশোরগঞ্জে অনেক প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। উন্নয়নের নানা দাবি করা হলেও বাস্তবে গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ সড়কব্যবস্থা থাকা উপজেলাগুলোর মধ্যে তারাইলও একটি। এত উন্নয়ন আর মেগাপ্রকল্পের কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হয়নি।”
সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এলএ