কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল ও ইজারা নিয়ে উপজেলা বিএনপির দুই মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রামের আখড়াবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল ও ইজারা নিয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জলমহালের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। এ বিরোধের জেরে এর আগেও গত বছর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয়রা জানান, বিলমাকশা জলমহালটি অষ্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলমহাল। জলমহালের ভোগদখল ও ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে বিএনপির স্থানীয় দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। শুক্রবার দুপুরে সেই পুরোনো বিরোধের জের ধরে আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পূর্ব অষ্টগ্রামের আখড়াবাজার এলাকায় বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। কিছু সময় ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত একজনকে পরে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত ২২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
এসএম শাহিন অভিযোগ করে বলেন, ‘বিলমাকশা জলমহালটি গত বছর আমি ইজারা নিয়েছিলাম। চলতি বছরও আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হয়ে। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ ইজারা কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে জলমহাল দখলের জন্য স্থানীয় লোকজনকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও এসএম শাহিন অভিযোগ করেন।
তবে এসএম শাহিনের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দ সাঈদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘শাহিনের সমর্থকেরাই প্রথমে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।’
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘সংঘর্ষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ