কথা ছিল ঢাকায় কাজ করে টাকা জমিয়ে নতুন ঘর দিবে বাক-প্রতিবন্ধী মিম। সেই ঘরে বাবা-মাকে নিয়ে থাকবে সে। কিন্তু তার সে আশা আর পুরন হলো না।
কাজ করতে গিয়ে ঢাকায় গাড়ি চাপায় নিহত হয় সে। তবে নতুন ঘর করতে না পারলেও নতুন ঘরেই চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছে সে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটায় জানাযার নামাজ শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মিমের মুত্যুতে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তার মা মিনু বেগম। তিনি জানান, ৪ দিন আগে মীম ঢাকায় যায়। যাওয়ার সময় সে বলেছে মা এবার টাকা জমায় নতুর ঘর বানাবো। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।
কথাগুলো বলতে বলতেই মুর্ছা যান তিনি। মীমের মায়ের আর্তনাদে উপস্থিত সকলের চোখেই পানি চলে আসে।
ঢাকা বারিধারা এলাকায় গাড়ি চাপায় নিহত মেহেদী হাসান মিম (২৪) ডোমার সরকারি কলেজের ছাত্র ছিল। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা তার কুলখানি সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার বারিধারা এলাকায় কে ব্লকের ১ নম্বর রোডে ১৩ নম্বর বাসার সামনে আছর নামাজ পড়ে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ডোমারের বাক-প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান মিম। এ সময় বিপরীত দিক হতে আসা একটি কালো রঙের কার চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেহেদী হাসান মিম।
নিহত মিম নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ৯ নম্বর সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের এরশাদুল হকের ছেলে। তারা দুইভাই ও এক বোন।
মিমের খালাতো ভাই রানা বলেন, ‘মেহেদী হাসান মিম একজন বাক-প্রতিবন্ধী। সে কানেও শোনে না,কথাও বলতে পারে না। সে ডোমার সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাবার বয়স হওয়ায় সে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সাথে সে ঢাকায় রওনা দিয়ে মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছে। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের পাশাপাশি সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত।’
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় তার মরদেহ ডোমারের নিজ বাড়িতে পৌঁছে। দুপুর তিনটায় তার জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
মিমের বড় ভাই মুক্তাদির বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। তার যে বোন রয়েছে তার ও বিয়ে হয়ে গেছে।
বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে মিমের সংসার। প্রতি মাসে সে তার বাবা-মাকে ১২-১৫ হাজার টাকা দিত। তাদের কোন আবাদী জমি নেই। শুধু বাড়ি-ভিটাটা রয়েছে। সে সুন্দর করে কাগজের ফুলসহ বিভিন্ন শৈল্পিক কাজ করত। আর্ট করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ছিল মিম।
এদিকে গাড়ি চাপায় মিমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেসংবাদ প্রকাশিত হলে আযান আলী শরীফ নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর আদালত ঘাতক আযানকে কিশোর শোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আযানের আইনজীবী আদারতকে জানান, ৯ লক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি আপস হয়েছে। তবে আপস হলেও এখন আট লক্ষ টাকা পায়নি মিমের পরিবার। মরদেহ আনার সময় তাদের হাতে এক লক্ষ টাকা দেয় ঘাতক গাড়ি চালকের পাইলট বাবা। আর বাকি আট লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা মীম যে কোম্পানিতে কাজ তাদের মালিকের হাতে।
কেকে/এমএ