জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বিএম তারিকুল কবীরের আদালত আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন করেন এবং মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন। আদালত আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এদিন মতিউর রহমানের পক্ষে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, মতিউর রহমান ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্পদ বিবরণীতে তিনি ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজের নামে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামে এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের একটি ছাগল কেনার ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই মতিউর রহমানকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং বিষয়টি ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়।
কেকে/ এমএস