কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য সেবায় সিজারিয়ান অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম স্বাস্থ্য সেবায় নতুন করে হাড়ভাঙা ১০ বছর বয়সি শিশুর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসূতি মায়ের জরুরি সিজারিয়ান সার্জারি মাধ্যমে ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি হাসপাতালের গঠিত মেডিকেল টিম চিকিৎসা সেবায় একের পর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত ১০ মাস পূর্বে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া একটি শিশু দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যাওয়ার পর রড সংযোজনের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছিল।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকালে হাসপাতালে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম ওই শিশুর হাতে পূর্বে সংস্থাপিত রড অপসারণের মতো জটিল অপারেশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়ছেন। নির্ধারিত সময় শেষে সফলভাবে রড অপসারণের মাধ্যমে শিশুটি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।
এই ধরনের জটিল অপারেশন গ্রামে কল্পনাতীত, সেটাকেই বাস্তবে রুপ দিতে অপারেশন টিম সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন।
মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনের সার্বিক তত্বাবধানে ও শিশুর হাড়ভাঙার সফল অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স কনসালট্যান্ট ডা. একেএম বদর উদ্দিন, এনেস্থেশিয়া কনসালট্যান্ট ডা. মামুন অর রশিদ চৌধুরী, সহকারী সার্জন (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) ডা. মিশকাত উদ্দিন মাহী ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সহকারী আব্দুল আজিজ।
মিসকাত উদ্দিন মাহী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে বিগত ১০ মাস পূর্বে তার অভিভাবক হাড়ভাঙা ১০ বছর বয়সি শিশুকে চিকিৎসা জন্য নিয়ে এসেছিল, তার সঠিক চিকিৎসা মেডিকেল টিম দিতে সক্ষম হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে ওই শিশুকে পুনরায় ১০ মাস পরে এসে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের গঠিত মেডিকেল টিম শিশুর হাতে পূর্বে সংস্থাপিত রড অপসারণের মতো জটিল অপারেশন সফল অস্ত্রোপচার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু তাই নয়, দেশে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতির মাঝেও মানবিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল।
তিনি গর্ভবর্তী মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ডেলিভারির ব্যথা শুরু হলেই বা সময় হলেই সাথে সাথে সরকারি হাসপাতালে চলে আসুন।’
গর্ভবতী মায়ের সেবায় তাদের হাসপাতালের ডেলিভারি টিম সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান মিসকাত উদ্দিন মাহী।
মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন বলেন, ‘১০০ শয্যা বিশিষ্ট চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সীমাবদ্ধতা ও অপ্রতুলতার মাঝেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং দক্ষতার সঙ্গে জনগণের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। আজকের সরকারি হাসপাতাল শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দক্ষ জনবল, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং আন্তরিক সেবার মাধ্যমে অনেক জটিল চিকিৎসাও এখন উপজেলা পর্যায়েই সফলভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে রোগীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি সবই কমছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোন একজন রোগীর জন্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োজনের প্রথম ঠিকানা হোক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা রাখুন, সরকারি হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করুন এবং আশপাশের মানুষকেও উৎসাহিত করুন। যাতে মানুষের বিশ্বাস ও সহযোগিতাই আমাদের আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে মানুষের পাশে ও মানুষের সেবায়।’
কেকে/এমএ