দেশের বাজারে কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা যখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, তখন বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু করেছে সরকার।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালানে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১০ ট্রাকভর্তি ভারতীয় কাঁচামরিচ দেশে প্রবেশ করেছে। ট্রাকপ্রতি ৭ থেকে ১০ মেট্রিক টন পর্যন্ত কাঁচামরিচ বোঝাই ছিল। হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দফায় প্রায় ৯০ মেট্রিক টন ভারতীয় কাঁচামরিচ এ স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা আমদানি করেছেন।
ব্যবসায়ীদের আশা, আমদানি অব্যাহত থাকলে আগামীকাল থেকেই বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করবে।
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে চার দফায় কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজারে যে কাঁচামরিচ আগে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা বেড়ে ৩০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হতে শুরু করে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ভোমরা কাস্টমস কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ ট্রাকভর্তি আমদানিকৃত ভারতীয় কাঁচামরিচ দেশে প্রবেশ করেছে। প্রয়োজনীয় শুল্ক ও কাস্টমস কার্যক্রম শেষে আমদানিকারকেরা এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করবেন।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার প্রথম চালানে ১০ ট্রাক কাঁচামরিচ দেশে এসেছে। আগামীকাল আরও অধিক পরিমাণ কাঁচামরিচ আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আমদানি চললে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।
ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগে ২ আগস্ট বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে ব্যবসায়ীদের এমন তথ্য জানানো হয়। এ উদ্যোগের ফলে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়ানোর সুযোগ পাবে না এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে কাঁচামরিচ কিনতে পারবেন।
সাতক্ষীরা শহরের কাঁচা-পাকামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী জানান, টানা বৃষ্টিতে জেলা শহর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলার মরিচের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কাঁচামরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সবজির উৎপাদনও কমে গেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় কাঁচামরিচের দাম ১৫ দিনে প্রায় ছয় গুণ বেড়ে গেছে। ৫০ টাকার কাঁচামরিচ এখন ৩০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে আজ ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দুই-এক দিনের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে এর দাম কমতে শুরু করবে। তিনি বলেন, আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কেকে/ এমএস