কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপজল, আগরবাতি ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অভিযুক্তরা হলেন—পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আল মামুন, লাইসেন্স শাখার কম্পিউটার অপারেটর আল-আমিন এবং পৌরসভার লাইব্রেরিয়ান মো. রাকিব মিয়া। চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই তিন কর্মচারী পৌরসভায় আর কাজে যোগ দেননি।
পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ (যা ভুক্তভোগী কর্মকর্তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান) ঠিকানায় একটি পার্সেল পাঠানো হয়। ভৈরবের এসএ পরিবহন শাখা থেকে পাঠানো ওই পার্সেলের প্রেরক হিসেবে আশুগঞ্জের ‘হরিদাস’ এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। প্রাপক হিসেবে মো. ফারুকের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। ওই দিন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার ছেলে পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরে বাসায় গিয়ে বাক্সটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে ১ গজ সাদা কাফনের কাপড়, ১ বোতল গোলাপজল, ১টি আগরবাতি এবং একটি প্রাণনাশের হুমকিসংবলিত চিরকুট রয়েছে। চিরকুটে তাকে এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, তিনি সবসময় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও নিয়মকানুন মেনে পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পৌরসভার কোনো কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত আবদারকে তিনি কখনো প্রশ্রয় দেননি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পর দৈনিক হাজিরাভিত্তিক (মাস্টাররোল) কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু চাকরি স্থায়ীকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা কেবল মামলা করলেই সম্ভব হয় না। তার ধারণা, চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় অভিযুক্ত কর্মচারীরা তাকেই এর জন্য দায়ী করছেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পৌরসভা থেকে সরিয়ে দিতে এই জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ জানান, প্রশাসনিকভাবে যা করণীয়, তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
কেকে/ এমএস