শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন      কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে: নাহিদ      গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল      থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা, শিক্ষার্থীসহ নিহত ৮      বাংলাদেশ নয় হাসিনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে ভারত      হামের থাবায় নতুন ভয়      চার মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ      
খেত খামার
হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা
মাসুম বিল্লাহ, শালিখা (​মাগুরা)
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪২ পিএম আপডেট: ০৭.০৮.২০২৬ ৪:৫৭ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

মাগুরার শালিখা উপজেলার নবগঙ্গার কুল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক গঙ্গারামপুর বাজার। শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির সাথে সাথে গ্রামীণ এই হাটে এখন চোখ মেললেই দেখা মিলছে হলুদ রঙে চোখ ধাঁধানো তাজা মিষ্টি কুমড়ো ফুল ও কুমড়ো শাকের পসরা। একসময় যা কেবল গ্রামের গৃহস্থবাড়ির নিজস্ব পাতেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় সবজিপ্রেমীদের খাদ্যতালিকায় প্রথম পছন্দ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এই ফুলটি।

​গঙ্গারামপুর বাজারে আসা স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে আশেপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা খেত থেকে তুলে আনা সতেজ কুমড়ো ফুল ও শাক বাজারে নিয়ে আসেন। কুচকুচে সবুজ পাতার সাথে উজ্জ্বল হলুদ ফুলের আঁটিগুলো দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি রান্নায় এর স্বাদও অতুলনীয়। এটাকা দরে এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কুমড়ো ফুল ও শাকের চাহিদা থাকায় প্রতিদিন এখানে বেশ ফুল বিক্রি হচ্ছে।

কুমড়ো ফুল কিনতে আসা নার্গিস নামে এক গৃহিণী বলেন, “কুমড়া ফুলের তৈরি চপ ও বড়া খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। তাই মাঝেমাঝেই আমি এখানে কুমড়ো ফুল নিতে আসি।”

মুচমুচে বড়া, তরকারি কিংবা ভাজি হিসেবে পরিবেশনে এর জুরি নেই। কৃত্রিম সারমুক্ত এবং গ্রাম বাংলার একদম সতেজ হওয়ায় ক্রেতারা কাড়াকাড়ি করে তা কিনে নিচ্ছেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, কুমড়ো ফুল দেখতে সাধারণ হলেও এর ফুল এবং ডগা পুষ্টির এক অনন্য আধার। এতে রয়েছে প্রভূত স্বাস্থ্য উপকারিতা। উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ক্যারোটিনয়েড’ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকার কারণে এটি দাঁত ও হাড় মজবুত করতে অত্যন্ত কার্যকরী এবং প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকায় তা হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

​গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মেটাতে এই শাক ও ফুলের কদর দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে বাণিজ্যিকভাবেও কুমড়ো ফুল ও শাক বিক্রি করে ভালো আয় করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, “কুমড়ো ফুল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত পরাগায়নের পরে, এই ফুলগুলি গাছ থেকে তুলে খাওয়া যায় পাশাপাশি ভালো দামে বিক্রিও করা যায়। আমাদের উচিত এটির প্রতি খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটবে অপরদিকে এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটা অন্যতম উৎস হতে পারে।”

কেকে/সাশ


আরও সংবাদ   বিষয়:  শ্রাবণের হাট   কৃষক  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close