মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামের বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে উটপাখি ও অস্ট্রেলিয়ার এমুর ডিম দিয়েছে। সেই ডিম দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। আর বিশাল আকৃতির এ ডিম দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কে উটপাখির দুটি এবং এমুর একটি ডিম সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছ থেকে ডিমগুলো দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগও পাচ্ছেন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ধূসর রঙের উটপাখির প্রতিটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। আকারের দিক থেকে একটি উটপাখির ডিম প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান।
এমুর ডিমের রং সবুজাভ-নীলচে। প্রতিটি ডিমের ওজন প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম। উটপাখি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা ৮-১০ ফুট এবং ওজন ৬৩-১৪৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। উড়তে না পারলেও এ পাখি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে।
এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ পাখির উচ্চতা ৫-৬ ফুট এবং ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এরা ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। এমুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ডিমে তা দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করে পুরুষ পাখি।
পরিবেশবান্ধব এ পার্কে আরও রয়েছে ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁসসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও রঙিন মাছ। এছাড়াও রয়েছে কৃত্রিম ঝর্ণা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম।
পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে সফলভাবে বাচ্চা ফুটবে বলে আমরা আশাবাদী। প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে ডিমগুলো যতদিন না ফোটানো হচ্ছে, ততদিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনে রাখা হবে।’
কেকে/এআই