বিশ্ব অর্থনীতি এখন যেন উত্তাল সমুদ্র— কখনো মুদ্রাবাজারে ঢেউ, কখনো জ্বালানি বাজারে ঝড়, কখনো পণ্যবাজারে অদৃশ্য ভূকম্পন। এক দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে অন্য দেশের বাজারে। সুদের হার, মুদ্রার বিনিময়মূল্য, জ্বালানির দাম, যুদ্ধের অভিঘাত, বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন কিংবা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা— সবকিছু মিলেমিশে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির আকাশে তৈরি করছে অনিশ্চয়তার ঘন মেঘ। এ বৈশ্বিক অস্থিরতার বাইরে থাকার সুযোগ বাংলাদেশের মতো আমদানি- ও বহির্বাণিজ্য-নির্ভর অর্থনীতির নেই। প্রশ্ন হলো, এ ঝড়ের সামনে আমাদের অর্থনীতির নোঙর কতটা শক্ত?
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ— এসব খাত অর্থনীতির ভিতকে বিস্তৃত করেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। কোটি মানুষের শ্রম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ তৈরি করছে; শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র দৃঢ় করছে। এ সংযোগ আমাদের সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঝুঁকির জানালাটিও উন্মুক্ত করেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেলে তার অভিঘাত সরাসরি এসে পড়ে বাংলাদেশের উৎপাদনব্যবস্থায়। শিল্পকারখানার ব্যয় বাড়ে, পরিবহন ব্যয় বাড়ে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ে, কৃষির উপকরণ ব্যয়বহুল হয়। এক পর্যায়ে সেই চাপ বাজারের পণ্যমূল্যে প্রতিফলিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে একটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দেশের বহু খাতে তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আর দূরদেশের কোনো পরিসংখ্যান নয়; এর স্পন্দন পৌঁছে যায় বাংলাদেশের পরিবারের মাসিক বাজেটেও। ২০২৫-২৬-এ বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৮-৯% এর আশপাশে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে।
মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে আমদানিকৃত পণ্য ও কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যায়; শিল্পের উৎপাদন ব্যয় থেকে শুরু করে ভোক্তার বাজার— সবখানেই তার প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। একটি দুর্বল বিনিময়মূল্য রপ্তানিকারকের জন্য কিছু ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করলেও আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর চাপ দ্রুত বিস্তৃত হয়।
২০২৫-এর মাঝামাঝি সময় থেকে বিনিময় হার আরও নমনীয় করা হলেও টাকার স্থিতিশীলতা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি; তাই বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার হিসাব।
আন্তর্জাতিক সুদের হারও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ায়, তখন আন্তর্জাতিক পুঁজির প্রবাহের গতিপথ বদলে যেতে পারে। বিনিয়োগকারীরা বেশি নিরাপদ ও তুলনামূলক উচ্চ মুনাফার বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারেন। উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য তখন বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে; ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ে, নতুন বিনিয়োগের গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬-এর প্রথমার্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিসুদ ১০%-এ স্থির রেখেছে, কিন্তু ব্যাংকিং খাতে ঋণের চাপ ও উচ্চ এনপিএল (প্রায় ৩০.৬%) অভ্যন্তরীণ সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভরতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক ভোক্তা বাজারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা কিংবা অন্যান্য বড় বাজারে ভোক্তার ব্যয়ক্ষমতা কমে গেলে তার প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশে পড়তে পারে। ২০২৫-২৬-এর প্রথম কয়েক মাসে রপ্তানি কিছুটা সংকুচিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বলতা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তার (যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক নীতি) প্রতিফলন। উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দা আমাদের কারখানার কর্মঘণ্টা, শ্রমিকের আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপরও ছায়া ফেলতে পারে। তাই রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত শিল্পে প্রবেশ এখন সময়ের দাবি।
প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া কিংবা বিশ্বের অন্য শ্রমবাজারে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে ২০২৫-২৬-এ বাংলাদেশে রেমিট্যান্স রেকর্ড (প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) হওয়ায় বহিঃখাতের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে; তবু প্রবাহের প্রায় অর্ধেক উপসাগরীয় দেশ থেকে আসায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ঝুঁকি থেকে যায়। নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুত এবং প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাই অর্থনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য কিছু সম্ভাবনার পথও আছে। বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, কৃষির উৎপাদনশীলতা, তরুণ জনগোষ্ঠী, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, চামড়া, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশলÑ বহু খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত সরবরাহশৃঙ্খলে বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বহির্ভরতার ঝুঁকি কিছুটা প্রশমিত হবে।
এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও দূরদর্শী পরিকল্পনা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব আহরণ, আমদানি ব্যবস্থাপনা, ঋণনীতি ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগ— প্রতিটি ক্ষেত্রকে একই বৃহৎ অর্থনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে। দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিংবা অদক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক সংকটের অভিঘাতকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
২০২৫-এর শেষের দিকে ব্যাংকিং খাতে এনপিএল প্রায় ৩০.৬%-এ পৌঁছানো এবং মূলধন পর্যাপ্ততা কিছু ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম সীমার নিচে নেমে আসা আর্থিক খাতের সংস্কারকে জরুরি করে তুলেছে। অর্থনীতির ভিত শক্ত করতে হলে আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাও বড় প্রশ্ন।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে আমদানিনির্ভর খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। সংকটের সময় ত্রাণ বা সাময়িক ভর্তুকির চেয়ে স্থিতিস্থাপক অর্থনৈতিক কাঠামো অধিক কার্যকর।
অর্থনীতির স্থিতিশীলতা শুধু রাষ্ট্রীয় কোষাগার কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি পরিবারের রান্নাঘর, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকান, একজন কৃষকের গোলা, একজন শ্রমিকের মজুরি এবং একজন তরুণের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও অর্থনীতির প্রকৃত আয়না। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রথম অভিঘাত অনেক সময় পরিসংখ্যানের পাতায় দৃশ্যমান হয় না; মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার নীরব উপস্থিতি অনুভূত হয়। বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে, সঞ্চয়ের ক্ষমতা কমে, ব্যয়ের খাতা দীর্ঘ হয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হয়। ২০২৫-২৬-এ দারিদ্র্য বেড়ে ২১.৪%-এ পৌঁছানো এবং নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এই বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করে।
এখানে সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক সংকটের সময়ে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে। যাদের আয় সীমিত, তাদের সংসারে মূল্যস্ফীতির প্রতিটি ধাক্কা গভীর ক্ষত তৈরি করে। ফলে অর্থনৈতিক নীতির সাফল্য যাচাইয়ের সময় শুধু প্রবৃদ্ধির হার কিংবা বিনিয়োগের অঙ্ক দেখলে চলবে না; দেখতে হবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কতটা অক্ষুণ্ন থাকছে। দুর্যোগের সময় রাষ্ট্রের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, অর্থনৈতিক অভিঘাতের মানবিক মূল্য তত কমানো সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদনশীলতার ঘাটতি। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। একই পণ্য কম খরচে, উন্নত মানে এবং দ্রুত সরবরাহ করতে পারা দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এগিয়ে যাবে। তাই শ্রমের প্রাচুর্যকে দক্ষতায় রূপান্তর করা জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতের বিশ্ববাজারে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। সস্তা শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অর্থনীতি থেকে উচ্চ উৎপাদনশীলতার অর্থনীতিতে উত্তরণ এখন সময়ের দাবি।
দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জ্বালানি রূপান্তর, কৃষির আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। প্রয়োজন হলো নির্ভরতার ঝুঁকি এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করা, যাতে কোনো একটি পণ্য, বাজার কিংবা উৎসে বিপর্যয় ঘটলে পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো কেঁপে না ওঠে। অর্থনীতির বৈচিত্র্যই হতে পারে সেই নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।
বিশ্বের অর্থনৈতিক মানচিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন বাণিজ্যজোট, নতুন প্রযুক্তি, নতুন সরবরাহশৃঙ্খল এবং নতুন বিনিয়োগকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এ পরিবর্তনের স্রোতে বাংলাদেশকে দর্শকের আসনে বসে থাকার সুযোগ নেই। ভূগোল, জনসংখ্যা, শ্রমশক্তি, সমুদ্রবন্দর, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও উৎপাদন সক্ষমতাকে সমন্বিত করে নতুন অর্থনৈতিক অবস্থান নির্মাণের সময় এখন।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা শেষ পর্যন্ত কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যবসায়ী সমাজ, কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, প্রবাসী এবং ভোক্তা— সবাই এই বৃহৎ কাঠামোর অংশ। নীতির ধারাবাহিকতা, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, বাজারের স্বচ্ছতা এবং নাগরিক আস্থা— এই চার স্তম্ভ দৃঢ় হলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার অভিঘাত অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব।
বিশ্ব অর্থনীতির ঝড় হয়তো আরও আসবে। কখনো জ্বালানির বাজারে, কখনো মুদ্রাবাজারে, কখনো বাণিজ্যের অঙ্গনে। সেই ঝড়ের গতিপথ নির্ধারণ করার ক্ষমতা বাংলাদেশের হাতে নেই। তবে ঝড়ের আগে নৌকা প্রস্তুত করার ক্ষমতা আছে। অর্থনীতির পাল মেরামত করার ক্ষমতা আছে। দুর্বল কাঠামো শনাক্ত করে শক্ত করার সুযোগ আছে। সবচেয়ে বড় কথা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে তাকে মোকাবিলার মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতা নির্মাণের সুযোগ এখনো আমাদের সামনে উন্মুক্ত।
সেই প্রস্তুতিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা। বিশ্ববাজারের ঢেউ থামবে না; পাল্টাবে তার রং, গতি ও গভীরতা। বাংলাদেশের দায়িত্ব সেই ঢেউকে অস্বীকার করা নয়, তার চরিত্র বুঝে নিজের অর্থনৈতিক নৌযানকে আরও দৃঢ় করে তোলা। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ কোনো দেশ নেই; নিরাপদ থাকার প্রকৃত অর্থ হলো ঝড় এলে ভেঙে না পড়ে, আঘাত এলে থেমে না গিয়ে, প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের গন্তব্যের দিশা অটুট রাখা।
লেখক : গণমাধ্যম কর্মী