কাজী ফার্মস লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট।
রোববার (৯ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে যশোর থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুল ইসলামকে যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেক সরদারকে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হলে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যায়। তবে সেখান থেকে আত্মসাৎ করা গমের ভূষির একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা গমের ভূষির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৭টি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, ২টি ল্যাপটপ, ১টি মোটরসাইকেল ও স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রটি যশোরের কাজী ফার্মসের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আরএস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে মোট ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি ক্রয়ের চুক্তি করে। পরবর্তী ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে সরবরাহ করা গমের ভূষি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি বাজারসংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়ক থেকে খালাস করে আত্মসাৎ করা হয়।
পরবর্তী প্রতারক চক্রটি আরও ৩০ হাজার টাকা ধার দাবি করলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি কাজী ফার্মস যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো গমের ভূষির অর্ডার দেওয়া হয়নি এবং প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। পরে তিনি যশোর জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে আটক এবং আত্মসাৎ করা মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
কেকে/এমএ