বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যে পথে আপা হেঁটেছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটছেন। আপা যাওয়ার আগে বলতো- আমি পালাই না, অমুকের মেয়ে পালায় না। কী হইছে এখন? পালাইছে।’
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসমাবেশে দিনি এসব কথা বলেন।
শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাবেশে জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘বাচ্চারা স্লোগান দিয়েছিল- পালাইছে রে পালাইছে। এই পথে যারাই হাঁটবেন, তাদেরকে পালাতে হবে। এই পথ পালানোর পথ। এই পথে হাঁটলে আপনি মক্কা যেতে পারবেন না, আপনি দিল্লি চলে যাবেন। এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি। এ দেশের মানুষ দিল্লির খবরদারি বাংলাদেশের ওপর চায় না। কোনো আধিপত্যবাদ মানবো না।’
‘আমরা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবো না। ইনশাআল্লাহ মজবুত কদমে মাথা উঁচু করে যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। বিড়াল হিসেবে বাঁচতে চাই না। বিড়ালের জীবন আমাদের জীবন হবে না ইনশাশাল্লাহ। আপনারা প্রস্তুত আছেন তো? প্রস্তুত থাকবেন। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে। ইনশাআল্লাহ হকের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে।’
গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটে আপনারা রায় দিলেন। সরকারে এখন যারা আছে তারাও বলছিল রায় দেন। আমি পরিষ্কার বলছি, গণভোট না মানলে শুধু না হবেন না, একসময় নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য, অপমান করে অতীতে কেউ টিকে নাই, শান্তি পায় নাই, সম্মান পায় নাই, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারে নাই। আপনারা মজলুম ছিলেন, আমরা চাই আপনারা ঠিক পথে ফিরে আসুন। জনগণের সংস্কার সাধন করুন, ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, মানবিক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাস্তা খুলে দিন। যদি খুলে দেন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’
ক্ষমতার লোভ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা কারও কোমরের নিচে চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন ক্ষমতায় বসান, আর যখন উঠিয়ে নিতে চান তখন উঠিয়ে নেন।’
ফ্যাসিবাদকে ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটা রোগ। এটা নির্দিষ্ট কোনো দলের সাথে থাকে না, এটা একটা ভাইরাস। এটা যেখানেই ভর করে, তারাই ফ্যাসিবাদী। এক ফ্যাসিবাদীকে তাড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণ আরেক ফ্যাসিবাদী চায় না।’
২০২৪ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাই-বোনেরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, মা ১০ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। হয়তো আবার আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে। যাদের জন্য প্রয়োজনে একবার নয়, শতবার নামবো ইনশাআল্লাহ। যত সময় আল্লাহ জীবন দিয়ে রেখেছেন, যত সময় নামার শক্তি দিয়ে আল্লাহ রাখবেন, তত সময় জাতির প্রয়োজনে অবশ্যই নামবো।’
‘আমরা কাপুরুষ নই, আমরা দুর্বল নই। কাপুরুষ তারা- যারা অপরাধ করে, যারা দখল বাণিজ্য করে, যারা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তোলে, যারা মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে। সে যেই হোক, আমার সন্তান হলেও ওটাও কাপুরুষ।’
সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই আমাদের শিশুরা নিরাপদ, আমাদের মেয়েরা নিরাপদ, আমাদের মায়েরা নিরাপদ, আমাদের যুবকরা নিরাপদ, আমাদের বয়স্করা নিরাপদ। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ, সকল বর্ণের মানুষ নিরাপদ, এ দেশের সকল ভাষার মানুষ নিরাপদ।’
কেকে/এমএ