বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৯ জন জিপিএ-৫ এবং বাকি ছয়জন ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়া ২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন ‘এ’ গ্রেড এবং চারজন ‘এ-মাইনাস’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতার ফলেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ভালো ফলাফলের জন্য তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এসএসসিতে শতভাগ সাফল্য অর্জন করায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আফজালুল হক। তিনি বলেন, এই ফলাফল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি। প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে শিক্ষকদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
নীলসাগর আদর্শ বিদ্যাপীঠের এমন সাফল্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিন বলেন, ‘একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ভালো ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই, নীলসাগর আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রতিটি শিক্ষার্থী শুধু ভালো ফলাফল করবে না, ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য একজন দায়িত্বশীল, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।’
এই সমাজসেবী আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই শিক্ষার্থীদের প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের দক্ষতায়ও এগিয়ে যেতে হবে। শুধু জিপিএ-৫ অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়; শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা জীবনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। এজন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই।’
আহসান হাবীব লেলিন বলেন, ‘নীলসাগর আদর্শ বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল নীলফামারীর শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। আজকের এই ফলাফল আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
তিনি এই সাফল্যের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফল ও বৃহত্তর সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শতভাগ সাফল্যের এই আনন্দঘন পরিবেশে সোমবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিনের উদ্যোগে নীলসাগর আদর্শ বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়। নীলফামারী জেলা শহরে ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষা ও ফলাফলের ক্ষেত্রে সুনাম ধরে রেখেছে নীলসাগর আদর্শ বিদ্যাপীঠ।
কেকে/এমএস