নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে হৃদয় মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কামাল (৩৫) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হৃদয় মিয়া পাড়াতলী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের দানু মিয়ার ছেলে। আহত কামাল একই এলাকার মধু মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের সাচিয়ামারা এলাকায় সৌদি প্রবাসী আব্দুল সালামের বাড়িতে সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় স্থানীয় চোরচক্রের চার সদস্য বাড়িতে চুরি করতে আসে। এ সময় হৃদয় মিয়া ও তার সহযোগী কামাল মিয়া প্রবাসীর বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে পড়ে। চক্রের অপর দুই সদস্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিল।
পরবর্তী চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির সদস্যরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় হৃদয় ও কামালকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। এতে উভয়েই গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয় মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত কামাল মিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একবছর আগে তাকে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জেলগেট থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারজানা আক্তার বলেন, ‘সকালে দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। হৃদয় মিয়া কথা বলতে বা নড়াচড়া করতে পারছিলো না। তার রক্তচাপও পাওয়া যাচ্ছিল না। ইসিজি ও অক্সিজেন দেওয়ার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে ব্রট ডেড হিসেবে লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
মো. মুজিবর রহমান বলেন, ‘রাতে চুরি করতে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে মারধর করেন। ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। প্রায় একবছর আগে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার সময় হাতকড়াসহ পালিয়ে গিয়েছিল।’
কেকে/এআই