নীলফামারী জেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। জেলায় ১০ হাজার ৭৬৬ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৬ হাজার ৭৩৫ জন। তাদের পাশের হার ৬২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ১১ হাজার ৩৮০ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৫ হাজার ৯৩২ জন। ছেলেদের পাশের হার ৫২ দশমিক ১৩ শতাংশ।
সোমবার (১০ জুলাই) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জেলায় এবার মোট ২২ হাজার ১৪৬ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ১২ হাজার ৬৬৭ জন। মোট পাশের হার ৫৭ দশমিক ২০ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলায় পাশের হারে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পাশ করা ১২ হাজার ৬৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৬০১ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে পাশের হারে নীলফামারী তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর মোট পাশের অনুপাতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে জেলার অবস্থান চতুর্থ।
এদিকে, জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি। ডোমার উপজেলার আমবাড়ি বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাশ করতে পারেনি।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট পাশের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এ বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে রংপুর জেলা। এ জেলায় পাশের হার ৬২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অন্যান্য জেলার মধ্যে দিনাজপুরে ৫৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, কুড়িগ্রামে ৫৬ দশমিক ৩৪, গাইবান্ধায় ৫৬ দশমিক ২৭, লালমনিরহাটে ৫৬ দশমিক ০৯, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৫ দশমিক ৯০ এবং পঞ্চগড়ে ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির অনুপাতে এগিয়ে রয়েছে দিনাজপুর জেলা। এ জেলায় পাশ করা শিক্ষার্থীদের ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরপর ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ দশমিক ৮০, রংপুরে ১৪ দশমিক ৭০, নীলফামারীতে ১২ দশমিক ৬৩, কুড়িগ্রামে ১১ দশমিক ০৭, পঞ্চগড়ে ৯ দশমিক ৩৭ এবং লালমনিরহাটে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফলাফলেও পাশের হারে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ বোর্ডের অধীনে ৮৮ হাজার ১৮০ জন মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৫৫ হাজার ৫৫৮ জন। তাদের পাশের হার ৬৩ দশমিক ০১ শতাংশ। অন্যদিকে, ৯২ হাজার ৫৭২ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৪৯ হাজার ৩৬৭ জন। ছেলেদের পাশের হার ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এ বোর্ডে মোট পাশ করা ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন।
কেকে/ এমএস