মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত তারা মিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টায় দুই দেশের মধ্যে আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ এর পক্ষে ১৯৯ বিএসএফ ব্যাটলিয়ন মাগুরুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত ও ৪৬ বিজিবির পক্ষে আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, কুলাউড়া থানার ওসি জহুরুল ইসলাম মুন্না এবং ভারতের ইরানী থানার ওসির শ্রীকান্ত চক্রবর্তী।
নিহত তারা মিয়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।
প্রসঙ্গত, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলেসহ কয়েকজন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় চোরাই পণ্য আনতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন।
এ সময় বিএসএফ ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এসময় তার সঙ্গে থাকা বাকি সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপ করেন। পরে বিএসএফ লাশ ভারতের ঊনুকুটি হাসপাতালে মর্গে নিয়ে রাখে।
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে আইনী প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীর পুলিশ সোমবার বিকেলে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্থান্তর করা হয়েছে।’
নিহত তারা মিয়ার মাতা আজিরুন্নেছা বলেন, আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিলনা। টাকার লোভ দেখিয়ে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন লোক। তখন বাঁধা দিলে ছেলে কথা শুনেনি। পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেললো। আমার বুকটা খালি হই গেল।
বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে তাদের পক্ষ থেকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দুই দেশের পতাকা বৈঠকের পর নিহত তরুণের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
কেকে/ এমএস