ভোলার সদর উপজেলার ব্যাংকারহাট কো-অপারেটিভ সেকেন্ডারি স্কুলে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯১ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪১ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ জন। ফলে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৫ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নেওয়া চারজন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৪ জন এবং ফেল করেছে পাঁচজন।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগে ফলাফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এ বিভাগে ৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২২ জন।
বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বিদ্যালয়ের পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কার্যক্রম এবং সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইলের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিভাবকদের দাবি, ফলাফল খারাপ হওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে এককভাবে দায়ী না করে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, ৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জনের অনুত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেকে/ এমএস