বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অমান্য করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে আগে ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা পাওয়া ২৫ কর্মচারীর ১৫ জনকে পরবর্তীতে ১ম শ্রেণিতে আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে বলে ইউজিসির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত চিঠি ও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পর্যালোচনা করে অ্যাসেসমেন্ট দল। এতে মোট ২৯টি পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত করা হয়। এসব পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন।
নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি ইউজিসির দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পদোন্নতি কার্যক্রম চালায়। ১১৬তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রথমে ২৫ কর্মচারীকে ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা দেওয়া হয়। পরে ১১১তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের আলোকে তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে ১ম শ্রেণিতে আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়।
ইউজিসির দাবি, ‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৩’ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে ওই নীতিমালার ভিত্তিতে দেওয়া পদমর্যাদা ও পরবর্তী আপগ্রেডেশনকে নিয়মবহির্ভূত ও অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
ইউজিসির নথিতে উল্লেখ করা ১৫ কর্মচারী হলেন—মো. মজিদুল হক, মো. মাহবুর রহমান প্রধান, মো. মতিয়ার রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আসাদুল হক, মো. নাহিদ পারভেজ, মোছা. মুন্নুজান খাতুন, মো. মাহাবুবুল আলম, ফাহিম মিয়া, মো. জাফরুল ইসলাম সরকার, মো. সাজেদুল করিম, মোছা. লুৎফা বেগম, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. আরমান হোসেন ও মো. মামুদ-উল-হাসান।
অ্যাসেসমেন্ট দল এসব আপগ্রেডেশনকে নিয়মবহির্ভূত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে আপগ্রেডেশন বাতিল এবং অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ ফেরত বা আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসি আরও সতর্ক করেছে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট চাহিদা ও মূল বরাদ্দের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও বিধি অনুসরণ করেই এসব পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
বেরোবির প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু আইন ও ইউজিসির কিছু নীতিমালার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি বৈধ না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী তা বৈধ ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “যাদের পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ৮, ১০ বা ১২ বছর পর পদোন্নতি পেয়েছেন।”
বাজেট কাটছাঁটের বিষয়ে তিনি বলেন, “কিছু খাতে বাজেট কমানো হয়েছে। তবে এসব অর্থ অন্য খাতে ইউজিসির মাধ্যমে পাওয়া যাবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি জানি না, ইউজিসির সঙ্গে কথা বলেন।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, “এখানে কোনো অনিয়ম বা নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
কেকে/সাশ